বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বাড়ছে বিনা টিকিটে ট্রেন-ভ্রমণের প্রবণতা

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২১, ০১:৫৬

‘জরুরি কাজে রাজধানী ঢাকায় যেতেই হবে, কিন্তু কাউন্টারে কোনো টিকিট নেই। আসনবিহীন টিকিট বিক্রিও বন্ধ রয়েছে। তাই বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠেছি। ট্রেনে টিকিট কালেক্টটরকে (টিটি) ম্যানেজ করে গন্তব্যে চলে যাবো’-এমন কথা বলছিলেন দেওয়ানগঞ্জ থেকে আগত ঢাকাগামী আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণরত যাত্রী ময়না আকন্দ। 

করোনা মহামারী প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সরকার ট্রেনে আসনবিহীন টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় ট্রেনগুলোতে আবারো যাত্রীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ট্রেনের আসনবিহীন টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকায় জরুরী কাজে যাওয়া যাত্রীরা বিনা টিকেটে বাধ্য হয়ে ট্রেনের দরজা, খাবারগাড়ি কিংবা পাওয়ারকার বগিতে গাদাগাদি করে ভ্রমণ করছেন।

জানাযায় ঢাকা-সরিষাবাড়ি,ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রেলপথে প্রতিদিন আন্তঃনগর তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, অগ্নিবীণা, জামালপুর এক্সপ্রেস ছাড়াও বেসরকারি দুইজোড়া কমিউটার ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনের শতকরা ৫০ ভাগ টিকিট যাত্রার নির্ধারিত তারিখের পাঁচ দিন আগেই বিক্রি শুরু করা হয়। যাত্রার দিন কাউন্টারে কোন টিকিট পওয়া যায় না। তাই হঠাৎ ভ্রমণ করা যাত্রীদের একমাত্র ভরসা আসনবিহীন ট্রেনের টিকিট। কিন্তু বর্তমানে আসনবিহীন টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বিনা টিকেটে ট্রেনে ভ্রমণ করছেন। 

অপরদিকে করোনা প্রতিরোধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রার ৫ দিন আগে ৫০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে বিক্রি শুরু করে আসছে। এতে করে যাত্রা বিরতির প্রতিটি স্থানে এক শ্রেণির সংঘবব্ধ টিকিট কালোবাজারিরা প্রতিনিয়ত অনলাইনে টিকিটগুলো কেটে মজুত করে পরে যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিটের মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ মূল্যে বিক্রি করছেন। এতে করে যেমন দিন দিন টিকিট কালোবাজারির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি হয়রানীর শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী।     

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আসনবিহীন টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকলে যাত্রী ভ্রমন বন্ধ নেই বরং আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে কর্তব্যরত টিকিট চেকার, নিরাপত্তা কর্মীসহ এটেন্ডেন্টস্দের ম্যানেজ করে এসব যাত্রীরা প্রতিনিয়ত ট্রেনে ভ্রমণ করে অসছেন। ফলে ট্রেনে করোনা নিয়ন্ত্রণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত গৃহীত পদক্ষেপ যেমন স্থবির হয়ে পড়েছে, ঠিক তেমনি সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়। 

এ বিষয়ে আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনযাত্রী মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক মো.মিনহাজুল আবেদীন মিনহাজ বলেন,অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আকুতি মিনতি করে কাউন্টার থেকে একটি টিকিটের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু ট্রেনে উঠে দেখি আসনের বিপরীতে বেশীর ভাগ যাত্রীই গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে বিনা টিকেটে ভ্রমণ করছেন। এতে করে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে বলে মনে করি।

এ ব্যাপারে জামালপুরের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন,করোনা প্রতিরোধে সরকার সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ট্রেনের ভিতরে যাত্রী চাপ কমাতে আসনবিহীন টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসায় যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আসনবিহীন টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকায় যাত্রীরা এখন বিনা টিকিটে দেদারসে ট্রেন ভ্রমণ করছে। এতে করে করোনা প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনের বুকিং ইনচার্জ মো. গোলাম মোর্তজা বলেন,করোনা মহামারি শুরুর আগে টিকিট কাউন্টার থেকে প্রতিদিনই গড়ে তিন লাখ টাকার টিকিট বিক্রি হতো। বর্তমানে আসনবিহীন টিকিট বন্ধ থাকায় টিকিট বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে।

জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো.আছাদ উজ জামান বলেন, আসনবিহীন টিকিট বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত সরকারের। তাই প্রতিদিন রেলের লোকসান হলেও আমাদের কিছুই করার নেই। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং আসনবিহীন টিকিট বিক্রির জন্য সরকারের সিদ্ধান্ত পেলে আবারো আসনবিহীন টিকিট বিক্রি শুরু করা হবে। 

জামালপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো.গোলজার হোসেন বলেন,বিনা টিকেটে কোন যাত্রী যেনো রেল ভ্রমণ করতে না পারে সেদিকে আমাদের বিশেষ নজরদারি রয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

পদ্মা সেতু ঘিরে উচ্ছ্বাস  

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন  

নারী শ্রমিককে ধর্ষণের অভিযোগ, অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

কোম্পানি খুলে নিয়েছে কম্বাইন্ড হারভেস্টারের যন্ত্রাংশ, পচছে ধান 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

কুসিক নির্বাচনে ইভিএম বাতিল চান মেয়র প্রার্থী কায়সার  

রায়গঞ্জে স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার 

ঘিওরে নড়বড়ে কাঠের পুল, ভোগান্তিতে ২০ গ্রামের মানুষ  

পূর্ব সুন্দরবনে ৩ মাস মাছ ধরা ও পর্যটন বন্ধ ঘোষণা