দক্ষিণাঞ্চলে নৌ সড়ক ও বিমান পথে টিকিট মিলছে না

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৭

ঢাকা-বরিশাল রুটে নৌ-পথে সবচেয়ে বেশি মানুষ যাতায়াত করলেও ২১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের ছুটিতে বাড়তি লঞ্চ কিংবা ট্রিপ রাখতে নারাজ লঞ্চ মালিকরা। এ রুটের ২১টি নৌ-যানের রুট পারমিট থাকলেও লঞ্চ মালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৬ থেকে ৭টি লঞ্চ প্রতিদিন উভয় প্রান্ত থেকে যাতায়াত করে থাকে। এতে করে বিভিন্ন ছুটিতে দুর্ভোগে পড়ে দক্ষিণাঞ্চলগামী মানুষ। এবার তিন দিনের ছুটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টঙ্গীর তুরাগ তীরে ইজতেমা ও চরমোনাইর বার্ষিক মাহফিল। ইজতেমা মঙ্গলবার দুপুরে শেষ হলেও অনেকেই আজ বুধবার আসার জন্য পূর্ব থেকেই টিকিট বুকিং করে রেখেছে। পাশাপাশি চরমোনাইর বার্ষিক মাহফিল আজ থেকে শুরু হচ্ছে আগামী তিন দিনের জন্য। এ মাহফিলের জন্য বিলাসবহুল একাধিক লঞ্চ পূর্ব থেকেই রিজার্ভ করে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় লঞ্চের সংখ্যা না বাড়ালে কর্মস্থলের যাত্রীদের পোহাতে হবে চরম দুর্ভোগ। হাতে গোনা যেকটি লঞ্চ সার্ভিস রয়েছে তাতে কোনোভাবেই টিকিট মিলছে না। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার টিকিটের কোটা ও প্রভাবশালী ব্যতীত সাধারণ কোনো মানুষের পক্ষে টিকিট পাওয়া সম্ভব নয়। তবে কালোবাজার থেকে চড়া দামে টিকিট পাচ্ছেন কেউ কেউ। বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা সরকার মিঠু ইত্তেফাককে জানান, বুধবার ঢাকা থেকে ও শনিবার বরিশাল থেকে যাত্রী চাপ বিবেচনায় লঞ্চ বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাব দেওয়া হলেও কোনো সাড়া মিলছে না।

কয়েকদিন যাবত এখানকার লঞ্চের কাউন্টারগুলোতে ধরনা দেওয়া যাত্রী ও তাদের স্বজনরা জানান, বরিশাল-ঢাকা রুটে যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি যাতায়াত করে থাকে নৌ-পথে। কালোবাজারে টিকিট পাওয়া গেলেও তার দাম থাকে কয়েকগুণ বেশি। যাত্রী চাপের পুরোপুরি সুযোগটি নিচ্ছেন বেসরকারি লঞ্চের মালিকরা। কেননা একেকটি লঞ্চে ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ছাড়লে তাদের লাভও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। ঐদিন যাত্রী চাপ থাকলেও অতিরিক্ত লাভের আশায় বাড়তি লঞ্চ দিতে রাজি হচ্ছে না লঞ্চ মালিকরা। বৃহত্ কোম্পানির পক্ষ থেকে বাড়তি একটি লঞ্চ সার্ভিসে রাখলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হতো। এ ব্যাপারে একাধিক লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে কেউ ফোন রিসিভ করেননি। তবে ২ অ্যাডভেঞ্চার বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোঃ নিজাম উদ্দিন ইত্তেফাককে গতকাল রাতে জানান, তাদের নিয়মিত সার্ভিসের পাশাপাশি অপর লঞ্চটিও যাত্রী সেবার কথা চিন্তা করে সার্ভিসে রাখছেন।

২৫শ’ টাকার বিমানের টিকিট

৯ হাজারেও মিলছে না

আকাশপথে বেসরকারি বিমান ইউএস বাংলা, নভোএয়ার ও বিমান বাংলাদেশ’র ফ্লাইটের টিকিট ৯ হাজারেও মিলছে না। আকাশপথে ঢাকা-বরিশাল রুটে একমুখী ভাড়া সাধারণত সর্বনিম্ন ২৫শ’ টাকা থাকলেও যাত্রী চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে বৃহস্পতিবার ও শনিবারের যে ক’টি টিকিট রয়েছে তার দাম হাঁকা হচ্ছে তিনগুণ বেশি দামে। এসব বিমানের কাউন্টারগুলো থেকে যাত্রীদের জানিয়ে দেওয়া হয় পূর্বে টিকিট বিক্রি হওয়ায় বর্তমানে যা রয়েছে তার দাম বৃদ্ধি রয়েছে। এ ছাড়াও সড়ক পথের বিলাসবহুল বাস সার্ভিসেরও টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। গতকাল বাসের কাউন্টারগুলোতে টিকিটের জন্য ধরনা দিলেও শূন্য হাতে ফেরত আসতে হয়েছে যাত্রীদের।