সিরাজদিখানে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:১৩

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা

আইন অমান্য করে অবাধে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। এতে কমে যাচ্ছে এলাকার ফসলি জমির পরিমাণ। আবার মাটি পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে স্থানীয় ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়ক। ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্তাগুলো। এতে রাস্তায় গাড়ি চলাচলে সমস্যাসহ এলাকা ধুলা-বালুতে একাকার হয়ে যাচ্ছে। মানুষের মধ্যে অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে। এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘ দশ বছর ধরে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে। প্রভাবশালী ঐ মহলটির হুমকির মুখে কেউ মুখ খুলতে বা বাধা দিতে পারছে না। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান  উপজেলার বাসাইল, গুয়াখোলা, খিদিরপুর এলাকায় এভাবে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হলেও এর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না ।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী  জানান, উপজেলার উত্তর পাথরঘাটা গ্রামের একটি প্রভাবশালী মহল প্রায় দশ বছর ধরে এলাকায় অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে। জমির মাটি ‘ভেকু ’ দিয়ে এমন খাড়াভাবে কাটা হয় যাতে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে পার্শ্ববতী জমির মাটি ভেঙে পড়ে। তখন পার্শ্ববর্তী ঐ জমি আর ফসল ফলানোর উপযোগী থাকে না। তখন পার্শ্ববর্তী জমির মালিককে দালালের মাধ্যমে তাদের কাছে মাটি বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়। তারপর জমির মাটি কেটে ট্রাক বা ট্রলিতে ভরে জোর করে অন্যের জমির উপর এবং স্থানীয় ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়ক দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ইট ভাটায়। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। মাটি ভর্তি ট্রাক গ্রাম্য সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তাগুলো ভেঙে যায়। আবার ধুলা-বালুতে এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়। এতে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় জানান, কৃষি জমির মাটি কাটার ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি ফসলি জমির উর্বরা শক্তি আশঙ্কাজনকভাবে  হ্রাস পায়।  এ অবস্থা চলতে থাকলে ফসলি জমিগুলো ভবিষ্যতে বন্ধ্যা জমিতে পরিণত হবে।