গাজীপুর প্রতিনিধি
সরকারি জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রির অভিযোগে গাজীপুরের ১৫ দলিল লেখকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে নিবন্ধন অধিদপ্তর। তাদের বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্র তৈরি করে কোটি কোটি টাকা মূল্যের বন বিভাগের সরকারি জমি রেজিস্ট্রিতে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে।
গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জানুয়ারি চাকরি থেকে অবসরে যান শ্রীপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সৈয়দ নজরুল ইসলাম। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম অবসরে যাওয়ার পর ওই অফিসের খণ্ডকালীন দায়িত্ব দেওয়া হয় গাজীপুর সদর রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলামকে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই বিদায়ী সাব-রেজিস্ট্রার ও তার সহযোগীদের অনিয়ম-দুর্নীতির বিচার এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে দালাল ও দুর্নীতি মুক্ত করতে কর্মবিরতি শুরু করে স্থানীয় দলিল লিখক সমিতি। খণ্ডকালীন সাব-রেজিস্ট্রার যোগদান করে অনিয়ম তদন্তের আশ্বাস দেন। প্রাথমিক তদন্তে বের হয়ে আসে শুধু গত জানুয়ারি মাসেই ২৩টি দলিলে ১৫ দলিল লেখকের কয়েক কোটি টাকার বনের জমি রেজিস্ট্রির চাঞ্চল্যকর তথ্য। বের হয়ে আসে পে-অর্ডার (সরকারি রাজস্ব) ছাড়াই দলিল লেখক সমিতির একজন বড় নেতার দলিল রেজিস্ট্রির তথ্যও। বিষয়টি জানার পর জেলা রেজিস্ট্রার এসব অনিয়মের খণ্ডচিত্র তুলে ধরে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের (আইজিআর) কাছে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন পাঠান। ওই প্রতিবেদনের আলোকে আইজিআর খান মো. আবদুল মান্নান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিদর্শক নৃপেন্দ্র চন্দ্র শিকদারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
গাজীপুরের জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মো. মোখলেসুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে বেশ বড় কিছু অনিয়ম উঠে এসেছে। এতে সরকারের বড় অংকের রাজস্ব ফাঁকির তথ্য রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করলে আরো অনেক অনিয়ম বের হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এসব অনিয়মের সাথে দলিল লেখক সমিতির কর্মকর্তাসহ ১৫ দলিল লেখকের নাম উঠে এসেছে। তাদেরসহ ওই অফিসের সব অনিয়ম তদন্তে আইজিআরের গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল মঙ্গলবার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তীতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
