গতকাল ফালগুনের মন উদাস করা রাতে হিম-কুয়াশা কেটে আকাশে ভেসে উঠেছিল এক পূর্ণ চাঁদ। ভরাট সেই চাঁদের উছলে পড়া রোশনাই মুগ্ধতায় ভাসিয়েছে মানুষের মন। দুগ্ধধবল আশ্চর্য রুপার থালার মত বিশাল চাঁদ। কবি আল মাহমুদের ভাষায় ’দুধভরা ওই চাদের বাটি ফেরেস্তারা উল্টায়..। বিজ্ঞানীরা কাগজে- কলমে এই বিশেষ চাঁদের নাম রেখেছে সুপারমুন!
‘চাঁদ কেন আসে না আমার ঘরে’.... এই গান হয়তো গতকাল শেষপর্যন্ত আক্ষরিক অর্থেই সত্যি হয়ে উঠেছিল। কারণ পৃথিবীর এত কাছাকাছি চাঁদ এসেছিল যে দেখে মনে হবে যেন আপনার বাড়ির ছাদের উপরেই আছে সে! কেবল বাংলাদেশ নয়,উজ্জ্বল চাঁদের বাঁধভাঙা আলোর বন্যায় ভেসে গেছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। এশিয়া থেকে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরোপসহ গোটা বিশ্বের মানুষ কিছুক্ষণের জন্য সব ব্যথা, বেদনা, কষ্ট ভুলে গিয়ে মেতেছিল সুপারমুনের সৌন্দর্যে। যুক্তরাস্ট্রের লাখ লাখ মানুষ সুপারমুন দেখতে বড় বড় অট্টালিকার ছাদে ওঠেন। কেউ কেউ সমুদ্র সৈকতে গিয়ে সুপারমুনের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। সুপারমুন প্রথমে দেখা যায় এশিয়ার আকাশে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনির পূর্বাঞ্চলের ব্রন্টি এলাকা এ উপলক্ষে উত্সবের নগরীতে পরিণত হয়। হাজার হাজার মানুষ সুপারমুন দেখতে বাইরে বেরিয়ে আসেন। অনেকে সুপারমুনের ছবি তুলে তা ফেসবুকে পোস্ট করেন।
ভারত, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, মিয়ানমারসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সুপারমুন দেখতে মানুষ বাইরে বের হয়ে আসেন। ঢাকার সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে পূর্ব আকাশে উদ্ভাসিত হয় সময়ের চেয়ে বড় ও উজ্জ্বল চাঁদ। জ্যোতির্বিদরা বলেছেন, গতকাল পৃথিবীর ৩ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে এসে পড়ে চাঁদ। গতকালের সুপারমুনকে ‘পূর্ণ বরফ চাঁদ’ নাম দেওয়া হয়।
গতকাল রাতে ঢাকার হাতিরঝিল, ধানমণ্ডি লেকসহ বিভিন্ন খোলা মাঠ ও বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে কিংবা বিভিন্ন সংস্থার আয়োজনে টেলিস্কোপে চন্দ্রদর্শন করেছেন জোছনাপ্রেমী মানুষ। শুধু খোলামেলা প্রাঙ্গণ নয়, সুপারমুনের জৌলুস ছড়িয়েছে ফেসবুক, টুইটার,ইনস্টাগ্রামসহ সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।
।
