বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অনুসারী হয়ে থাকলে আপনার বিস্মৃত হওয়ার কথা নয়। এই তো ৮ মাসের আগের কথা। চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টেস্টের শেষ দিনে ক্যারিবিয়ান রূপকথার সাক্ষী হয়েছিল ক্রিকেট বিশ্ব। কাইল মেয়ার্স-এনক্রমা বনার বিস্ময় উপহার দিয়েছিলেন বাংলাদেশকে। দুই ক্যারিবিয়ানের সঙ্গে সাগরিকার ২২ গজও চক্ষু চড়কগাছ করে দিয়েছিল।
ম্যাচে টানা চারদিন চালকের আসনে ছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য উইন্ডিজদের ৩৯৫ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেয় মুমিনুল বাহিনী। দিন শেষে ৩ উইকেটে ১১০ রান তুলেছিল সফরকারীরা। পঞ্চম দিনে ২৯৫ রান করতে হবে তাদের। জয়ের আশায় বুক বেঁধে ছিল বাংলাদেশ। উইকেট ভাঙবে, ক্যারিবিয়ানরা দ্রুত গুটিয়ে যাবে— এমন কল্পনাকে উড়িয়ে দিয়েছে ২২ গজের রূপ।
ভোল পাল্টে উইকেট ব্যাটসম্যানদের আলিঙ্গন করে। সাগরিকার উইকেট বুঝিয়ে দেয়, সবার উপরে ব্যাটিং সত্য, তাহার উপরে নাই। মেয়ার্সের ডাবল সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ডে বাংলাদেশকে হতাশায় ডুবিয়ে ৩ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
চট্টগ্রামের উইকেটের ব্যাটিং সখ্যতা নতুন নয়। কিন্তু পঞ্চম দিনেও প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে উইকেট যেন ব্যাটিং বান্ধব হয়ে পড়ে।
চলমান চট্টগ্রাম টেস্টে একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তিই ঘটছে। ম্যাচের শেষ দুই দিনে উইকেট ব্যাটিং স্বর্গ হিসেবেই ধরা দিচ্ছে। গতকাল বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়েছিল ১৫৭ রানে। রান মৃগয়া উইকেটেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় স্কোরটা বড় হয়নি। তৃতীয় দিনের বিকেলে চার উইকেটের পতন, গতকাল সকালেই মুশফিকের বিদায় এবং ইয়াসির আলীর ব্যথা পেয়ে অবসরে যাওয়াটা বিপদে ফেলে বাংলাদেশকে। শাহীন আফ্রিদির বোলিং তোপেই স্কোরটা প্রত্যাশিত গন্তব্যে যায়নি।
দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের জন্য পাকিস্তানের টার্গেট দাঁড়ায় ২০২ রান। এই পুঁজিতেই জমাট লড়াইয়ের আশা ছিল। ক্ষীণ স্বরে হলেও বাজছিল জয়ের সুর। কিন্তু দিন শেষে হারের দুয়ারে বাংলাদেশ। সাগরিকায় ডুবতে বসেছে জয়ের স্বপ্ন। কারণ গতকাল ৩৩ ওভার ব্যাটিং করা পাকিস্তানের ওপেনারদের টলাতে পারেনি স্বাগতিক বোলাররা। নির্বিঘ্নে ব্যাটিং করেছেন আবিদ আলী ও আব্দুল্লাহ শফিক, শেষ বিকেলে ফিরেছেন জয়ের সুবাস নিয়ে। তাদের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান বিনা উইকেটে ১০৯ রান তুলেছে। জয়ের জন্য আজ তাদের করতে হবে আর ৯৩ রান। ম্যাচের তৃতীয় দিনের মতোই তাইজুল-এবাদতরা উইকেটের দেখা পাননি। আবিদ আলী ৫৬, আব্দুল্লাহ শফিক ৫৩ রানে ব্যাট করছেন। নভেম্বরে যেন ফেব্রুয়ারিকেই ফিরিয়ে এনেছে সাগরিকার উইকেট।
আজ বল হাতে অভাবনীয় কিছু না হলে বাংলাদেশের পরাজয়টা এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার। সঙ্গে এটুকুও স্পষ্ট উইকেটের আচরণ বিবেচনায় স্বাগতিকদের দ্বিতীয় ইনিংসটা অনেক বড় হওয়া উচিত ছিল।
