শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি ২০২২, ৭ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

মোঘল আমলের ‘জিনজিরা প্রাসাদ’ দখল করে একাধিক স্থাপনা!

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ২১:৩১

কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকায় রাজ দরবারের কেরানি ও কর্মচারিদের বসবাসের জন্য ১৬৮৯ সালে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন বাংলার সুবেদার ইব্রাহিম খান। এরপর থেকেই সেখানে নবাবদের কেরানিসহ পাইক-পেয়াদারা বসবাস করতে থাকেন। তবে সংস্কারের অভাবে ইতিহাস বহণকারী সে প্রাসাদটি এখন এলাকাবাসীদের দখলে। প্রাসাদের জায়গায় অনেকে নির্মাণ করেছেন বাড়িঘর।

নবাবদের কেরানিদের বসবাসের জন্য এলাকাটির নামকরণ করা হয় কেরানীগঞ্জ। ১৭৪০ সালে ঈসা খাঁর বংশধর নবাব সরফরাজ খাঁর পতন হলে রাজ্য দখল করেন হোসেন কুলি খাঁ। ১৭৫৪ সালে কুলি খাঁকে হত্যা করা হলে তার পরিবারের সদস্যরা এ প্রাসাদে বসবাস করতে থাকেন। পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদৌল্লার পতন হলে নবাবের নানা আলীবদী খাঁর স্ত্রী শরীফুন নেছা ও সিরাজউদৌল্লার স্ত্রী লুৎফুর নেছা, মেয়ে জহুরা ও মা আমেনা বেগমকে আটক করে রাজদরবার থেকে এনে এই প্রসাদে লোহার জিঞ্জির দিয়ে বেধে রাখেন খালা ঘসেটি বেগম ও মীর জাফার। তখন থেকে এলাকাটির নামকরণ করা হয় জিনজিরা। পরে মীর জাফর চক্রান্ত করে সিরাজউদৌল্লার পরিবারে সদস্য ও ঘসেটি বেগমকে বুড়িগঙ্গা নদীতে দুটি নৌকায় তুলে দেন। একটি নৌকায় ঘসেটি বেগমকে সোয়ারিঘাটে এনে নৌকা ডুবিয়ে হত্যা করা হয়। 

পরবর্তীতে মীর জাফর আলী খাঁ নবাব সিরাজউদৌল্লারকে হত্যা করে ক্ষমতা গ্রহণ করতে চাইলে লর্ড ক্লাইভ তাকে আটক করে নিজেই বাংলা পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বেঁচে যাওয়া নবাব পরিবারের সদস্যদের লর্ড ক্লাইভ মুর্শিদাবাদ পাঠিয়ে দেন। নবাব ঈসা খাঁর আমল থেকে সিরাজউদৌল্লার আমল পর্যন্ত এ অঞ্চলের ৪০০ বছরের ইতিহাসের অনেক সাক্ষী বহন করছে এই জিনজিরা প্রসাদ। এমনকি কথিত আছে, বর্তমান পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লা থেকে বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশ দিয়ে সুরঙ্গ পথে জিনজিরা প্রাসাদে সেনারা যাওয়া-আসা করতো। 

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পতনের পর হিন্দুস্থান ও পাকিস্তান তৈরি হলে পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করা হয়। এ সময় পুরান ঢাকার ইসলামপুরে নবাববাড়ি ও লালবাগ কেল্লা সংরক্ষণ করা হলেও জিনজিরা প্রাসাদটি সংরক্ষণের উদ্যোগ আজও নেওয়া হয়নি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অর্থাৎ বিগত ৫০ বছরে নবাবদের এ প্রসাদের জমি দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতারা বহুতল ভবন তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, যেভাবে এলাকাবাসী প্রাসাদটি দখল করছে, তাতে কিছুদিন পর এ প্রাসাদের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। তাই অবিলম্বে সরকারকে প্রসাদটি সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। 

উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ জানান, কালের সাক্ষী এ প্রাসাদ উদ্ধার করতে উপজেলা প্রশাসন থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছেন তারা। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

‘পুরুষের তুলনায় বেশি নিরাপদ নারী চালক’

নির্বাচন অফিসেই অরক্ষিত ব্যালট পেপার!

বিশেষ সংবাদ

ট্রেনের ‘২৫ ভাগ’ টিকিট মুহূর্তেই কোথায় যায়?

লঞ্চে আগুন: দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

নাফ থেকে মিললো সাড়ে ২২ কোটি টাকার আইস-ইয়াবা

কুমিল্লায় অবৈধভাবে খালের বাঁধ-মাটি কাটায় হুমকির মুখে কৃষকের জমি

দীর্ঘ ১৮ বছরেও নির্মিত হয়নি ধীরাশ্রম কনটেইনার ডিপো

ইউএনওর হস্তক্ষেপে বিধবা ভাতা পেলেন অঞ্জনা বালা