বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ইন্টারনেটে সাক্ষাত্কার নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল রবিবার রাতে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে আবেদনটি জমা দেন। সচিবের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, গত দুই দিনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল ইসিতে আসার আগে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ভিডিও কনফারেন্সের বিষয়ে কেউ তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ দিলে তা খতিয়ে দেখবে ইসি।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খান বলেন, আজকে (গতকাল) দেশবাসী দেখেছে বাংলাদেশের একজন পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমান বিএনপির যারা প্রার্থী তাদের সঙ্গে কথা বলছে স্কাইপ বা কোনো মাধ্যমে, টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে। যেটা বাংলাদেশের নির্বাচনী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের দুই মাস আগের একটা নির্দেশনা আছে যে তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য কোনো জায়গায় প্রচার করা যাবে না। সুতরাং আমাদের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটা আদালত অবমাননার শামিল এবং সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন এটাও বলেছে গঠনতন্ত্র পরিবর্তন সাপেক্ষে তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। তিনি বলেন, আমরা মনে করি এটা নির্বাচনের এবং সর্বোচ্চ আদালতের আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। আমরা লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছি। আমরা আশা করছি নির্বাচন কমিশন যথাযথ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তারেক রহমান দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন, এটা কোন আইনের কোন বিধানের লঙ্ঘন জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল ইসলাম চৌধুরী নওফেল বলেন, তারেক রহমান টেলি-কনফারেন্সের মাধ্যমে মনোনয়ন প্রার্থীদের সাক্ষাত্কার নিচ্ছেন। এটা গণমাধ্যমেও এসেছে। তিনি পলাতক ও দণ্ডিত ব্যক্তি হিসেবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন না। যেহেতু উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আছে। তাকে ঘিরে কোনো প্রকার লাইভ স্ট্রিমিং, টেলিকনফারেন্সিং তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে আদালতের অর্ডার ভঙ্গ করার মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী আচরণবিধিও লঙ্ঘন করছেন। কারণ, নির্বাচনী আচরণবিধিতে আছে দেশে বিদ্যমান প্রচলিত আচরণবিধিও মেনে চলতে হবে।
‘হাসিনা : এ ডটারস টেল’ নামক ডিজিটাল প্রচারণার মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে কিনা— জানতে চাইলে ফারুক খান বলেন, এটা বিনোদন মাধ্যমে দেখা হচ্ছে এবং মানুষ টাকা দিয়ে দেখছে। এটার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে অ্যাডভোকেট ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবীর কাউসার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তারেকের ভিডিও কনফারেন্সের অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখবে ইসি
নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা বলেছেন, আমরা শুনেছি। আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো কিছুকে মনিটরিং করার নিজস্ব ক্যাপাসিটি নাই। যদি কেউ তথ্য-প্রমাণসহ আমাদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন, তাহলে আমরা আইনের মধ্যে যদি কিছু থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বলব। আর যদি আইনের ভেতর কিছু না থাকে, তাহলে আমরা নিজেরা কমিশন বসে আমরা কী করতে পারি সেটা পর্যালোচনা করে দেখে তারপরে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।
তারেক রহমান যদি দেশে থাকত তাহলে তিনি ভিডিও কনফারেন্স করতে পারত কিনা এই প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, যদি কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হন, তাহলে অবশ্যই তার জেলে বা পলাতক থাকার কথা। কেউ জেলে থাকলে এ ধরনের কাজ করার কথা না। জেল থেকে যদি উনি জামিনে আসতেন, তাহলে পরে কোনো অসুবিধা ছিল না। কিন্তু এক্ষেত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আইনের কাভারেজ কতটুকু কী আছে এগুলো দেখে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারব।
বিএনপির জমা দেওয়া মামলা ও গ্রেফতারের তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তালিকাটি আমি দেখিনি। সত্যিকারের অর্থে যদি কোনো হয়রানিমূলক মামলা হয়ে থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেব, যেন হয়রানিমূলক মামলা না করে। কেননা, হয়রানিমূলক মামলা করলে নির্বাচনের পরিবেশ কিছুটা হলেও বিনষ্ট হবে। তিনি বলেন, আসলে হয়রানিমূলক কিছু হয়ে থাকে কমিশন নির্দেশনা দিবে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য।
‘থ্যাংক ইউ পিএম’ বিষয়ে টেলিভিশনে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে সেটা আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে বলে বিএনপি অভিযোগ করছে। এ ব্যাপারে রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। একটা সরকার আছে সেই সরকারের উন্নয়নগুলো তুলে ধরছে।
