‘ভাষা রাজনীতি’ শুনলে আমাদের আঁতকে ওঠারই কথা। কারণ এ বিষয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা মোটেও প্রীতিকর নয়। ১৯৪৭-এ পাকিস্তান অর্জনের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম মুসলিম লীগ পূর্ববঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হলেও পূর্ববঙ্গীয় নেতৃত্বের দুর্বলতা ও অদূরদর্শিতা অবাঙালি নেতৃত্বের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে দেয়। পাকিস্তান যেদিন স্বাধীন হলো, সদ্য গভর্নর জেনারেল হিসেবে শপথ নেয়া জিন্নাহ সাহেব পাকিস্তানের প্রথম মন্ত্রিপরিষদে তাবেদার চরিত্রের দুজন পূর্ববঙ্গজাত ব্যক্তিকে ঠাঁই দিলেন। তাদের একজন পূর্ববঙ্গকে পূর্ববঙ্গ বা নিজদেশ ভাবতে পারেননি। মন্ত্রী অবস্থায় রাষ্ট্রের অজ্ঞাতে দেশত্যাগ করে ভারতকে আপনভূমি হিসেবে বরণ করে নিলেন। অন্যজন ভাষার প্রশ্নে অবাঙালিদের উত্সাহকেও ম্লান করে দিলেন—তিনি বললেন, আরবি হরফে বাংলা লিখতে হবে।
বাঙালি মন্ত্রীর এই উত্সাহ আমাদের অবাক করারই কথা। কিন্তু করেনি তার কারণ সেকালের বাঙালি মুসলমান চর্চায় মুসলমান হলেও চর্চায় বাঙালি ছিলেন সামান্যই।
কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাময়িকী ‘নবনূর’-এর শ্রাবণ ১৩১২ সংখ্যায় লেখক এবং রাজনীতিবিদ একিন উদ্দীন আহ্মদ লিখেছেন :
‘বঙ্গবাসী মুসলমানগণ এতদিন ধরিয়া নিজে কি করিয়া আসিতেছেন তাহা কি কেহ একবার চিন্তা করিয়া দেখিয়াছেন?—তাহারা মাতৃক্রোড় হইতে আরম্ভ করিয়া চারি-পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত দেশী বাঙ্গলা শিখিতেন, তত্পর আরবী ভাষা তোতাপাখির মতো ৯/১০ বত্সর বয়স পর্য্যন্ত আওড়াইয়া পারসী ভাষার জ্ঞান লাভ করিতেন। তখন জঘন্য বাঙালা ও কথিত মার্জ্জিত উর্দ্দু ভাষাই তাঁহাদের মতোভাব ব্যক্ত করিবার প্রধান উপায় হইত। সেই সময়ে মুসলমানদের মধ্যে যাঁহারা অবস্থাপন্ন ও ভদ্র বলিয়া পরিচিত হইতে চাহিতেন, তাঁহারা চিঠিপত্র লিখিতেন পারসীতে, সমাজে কথাবার্তা বলিতেন উর্দ্দুতে, আর সামাজিক কথাবার্তা উর্দ্দুতে বলিতে বলিতে wit and wisdom প্রকাশ করিতেন পারসী বয়ত্ আওড়াইয়া। মুসলমান ধর্ম্ম-প্রচারকগণ কথাবার্ত্তা বলিতেন উর্দ্দুতে এবং নিজের কথা ও ভাব সমর্থন করিতেন আরবী ভাষার Authority আওড়াইয়া। তখন হতভাগা ছোটলোকের সঙ্গে বড়লোকের ভাবে ভাষায়, আচার ব্যবহারে, চিন্তা ও কথাবার্ত্তায় আকাশ পাতাল প্রভেদ ছিল। হিন্দু মহাশয়গণেরও অবস্থা এ প্রকারই ছিল। তাঁহাদের পণ্ডিতগণ কথাবার্তা বাকবিতণ্ডা লেখাপড়া করিতেন সংস্কৃতিতে।’
এটি ছিল বাস্তব প্রেক্ষাপট। সেক্ষেত্রে এই রচানটি প্রকাশিত হবার পরবর্তী তিন-চার দশকে বাঙালি মুসলমান এলিট শিক্ষা ও ভাষাচর্চায় এমন কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেনি যে তাঁরা ‘হতভাগা ছোটলোক’দের ভাষা কবুল করে নেবেন।
জিন্নাহ সাহেবের ভাষা ঘোষণার প্রেক্ষাপট বাঙালি মুসলমানরাই রচনা করেছিলেন, অন্তত সেকালের মন্ত্রীদের আচরণ তো তা-ই প্রমাণ করে। বাংলার জন্য আকুলতা বাঙালি মুসলমান ‘আশরাফ’-এর ছিল সামান্যই; আকুলতা ছিল ‘আতরাফ’-এর।
পাকিস্তানের চার শতাংশ মানুষের মুখের ভাষা উর্দু যখন রাষ্ট্রভাষা বলে ঘোষিত হলো, পূর্ববঙ্গের ‘নন-এলিট’ বাঙালি এর প্রতিবাদ করবেন—এটাই ছিল প্রত্যাশিত, তা-ই ঘটেছে। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানও উর্দু প্রত্যাখ্যান করবে—এটা আমাদের কাছে ছিল অভাবনীয়। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা পাঞ্জাবি, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যথাক্রমে সিন্ধি ও বালুচ; ১৯৪৭ পরবর্তী সিন্ধুর প্রথম মুখ্যমন্ত্রী আইয়ুব পুরো উর্দুভাষা ও ক্রমাগত উর্দুভাষী মোহাজির অনুপ্রবেশের প্রতিবাদ করে জিন্নাহর বিরাগভাজন হয়ে মুখ্যমন্ত্রিত্ব হারালেন। জিন্নাহ তার বিরুদ্ধে অদক্ষতা ও অসততার অভিযোগ আনলেন। কিন্তু তার জনপ্রিয়তা জিন্নাহর মৃত্যুর পরপরই তাকে আবার ক্ষমতাসীন করে।
বায়ান্ন ভাষা আন্দোলনের আগেই অবাঙালি আগা খান ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম সফর করে লিখলেন, আমি একজনকেও উর্দুতে কথা বলতে শুনিনি।
তাহলে উর্দু কেন এ অঞ্চলের রাষ্ট্রভাষা কিংবা দাপ্তরিক ভাষা হবে?
উর্দু চাপিয়ে দেবার পরিণতি ভাষা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা আন্দোলন এবং স্বাধীনতা অর্জন
ভাষা রাজনীতি যে জাতি ও রাষ্ট্রকে বিভক্ত করতে পারে উর্দু নিয়ে রাজনীতি এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ভাষা রাজনীতি বিভক্ত নয়, সংহতও করতে পারে এর বড় উদাহরণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের দাপ্তরিক ভাষা কী?
আজ এই প্রশ্নের একক এবং অবিভাজ্য জবাব—ইংলিশ।
অভিবাসীর দেশ যুক্তরাষ্ট্র।
১৭৭৬ সালে দেশটি যখন স্বাধীন হয়, দেশটির একটি এলিট শ্রেণি ছিল অভিবাসী জার্মান। তাদের দাবি, জার্মান হবে এদেশের একটি দাপ্তরিক ভাষা।
সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস্-এর প্রথম স্পিকার ছিলেন জার্মান বংশোদ্ভূত ফ্রেডেরিক অগাস্টাস কনরাড মুলেনবার্গ (১৭৫০-১৮০১)। তাঁর জন্ম পেনসিলভানিয়াতে হলেও তাঁর পিতার জন্ম জার্মানিতে। ফ্রেডেরিক মুলেনবার্গ নিজেও জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। জার্মান আবহের মধ্যে বেড়ে উঠলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য, রাষ্ট্রীয় সংহতির জন্য ইংরেজিকেই উপযুক্ত মনে করলেন। জার্মান লবি তাদের ভাষাকে যুক্তরাষ্ট্রের দাপ্তরিক ভাষা ঘোষণার বিল প্রস্তুত করল। কিন্তু জার্মান বংশজাত স্পিকার নিজেই বাধান হয়ে দাঁড়ালেন, তিনি বিলটি উত্থাপিত হতে দিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সকল ফেডারেল আইন জার্মান ভাষায় প্রকাশ করার একটি প্রস্তাব উঠল ১৭৯৫ সালে। মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে গেল।
অঙ্গরাজ্যে দাপ্তরিক ভাষা একাধিক হতে পারে, কিন্তু ফেডারেল ভাষা একটিই—ইংরেজি।
১৭৫৩ সালে জার্মান অভিবাসীদের ভাষাশিক্ষা প্রবণতায় অসন্তুষ্ট হয়ে বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন বললেন, জার্মান অভিবাসীরা ইংরেজি লিখছে না। আর জার্মানদের মধ্যে যারা হীনবুদ্ধিসম্পন্ন কেবল তারাই নিজের দেশ ছেড়ে আমেরিকায় আসছে।
থিউডোর রুজভেল্ট আমেরিকার জন্য কেবল মাত্র ইংরেজি ভাষার কথা বলেন—আমাদের একটি পতাকা ও একটি ভাষা।
ইংরেজি এখন বিশ্বভাষা, বিশ্বায়নের ভাষা, প্রযুক্তির ভাষা। কোনো সন্দেহ নেই ইংরেজি ভাষা আমেরিকায় জাতীয় সংহতিকে জোরদার করেছে।
আবার অতি উত্সাহী ইংরেজি প্রেমিকদের ‘ইংলিশ অনলি মুভমেন্ট’ রাষ্ট্রীয় সংহতিতে আঘাত করেছে। ভাষার স্বাভাবিক গতিময়তা রুদ্ধ করতে কিংবা কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধি করতে যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তার ফলাফল ইতিবাচক হয়নি। ইংরেজি আমেরিকায় সংহতি সৃষ্টি করলেও এ ভাষার পক্ষে কি বৈশ্বিক সংহতি সৃষ্টি করা সম্ভব?
মাইক্রোসফট এনকার্টা ওয়ার্ন্ড ডিকশানারি প্রকাশের দিন উদ্বোধনী ভাষণে অহংদীপ্ত কণ্ঠে বিল গেটস বলেছেন :এক পৃথিবী এক অভিধান। এই বক্তব্য ভাষাবিজ্ঞানী রিচার্ড মরিসনকে আতঙ্কিত করেছে। তিনি লিখেছেন, এটাও সত্য বিল গেটস যে ‘এক পৃথিবী এক অভিধান’-এর কথা বলেছেন তা মাত্র এক প্রজন্ম দূরে। কিন্তু আমরা আশা করব মানুষ এক সর্বাত্মক অতলান্ত মহাসাগরে পড়বে না।
ভাষা রাজনীতির মোদ্দকথা একই দেশে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের উপর ভাষাভিত্তিক রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এর অনেকগুলো প্রকরণ :
১. কোনো ভাষাকে কোনো রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় বা দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া বা না দেওয়া। এই স্বীকৃতির বিপুল প্রভাব—সকল সরকারি কাগজপত্র, ফর্ম, দলিল-দস্তাবেজ, আদালত, সংসদীয় কার্যক্রম সবই স্বীকৃত ভাষার গুরুত্ব ও ব্যবহার বাড়িয়ে দেয়। অস্বীকৃতি ভাষার সামাজিক আর্থিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব হ্রাস করে।
২. যে সব রাষ্ট্রের প্রধান ভাষা একাধিক, সেখানে কোনো একটি ভাষাকে দাপ্তরিক ভাষা ঘোষণা করার মানে সেই ভাষায় কথা বলা মানুষকে অন্যদের চেয়ে বেশি সুযোগ প্রদান করা, অন্য-ভাষার মানুষের উপর কর্তৃত্ব করাতে রাষ্ট্রীয় সমর্থন জোগানো—অনিবার্য সংঘাত ডেকে আনা।
৩. একাধিক ভাষা যখন রাষ্ট্রের সরকারি ভাষা, তখন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী যাদের ভাষা এই স্বীকৃতি পায় না, তারা তাদের ভাষা হেয়কৃত হয়েছে বলে মনে করে এবং আন্দোলনের পথ ধরে।
৪. একটি ভাষা যেখানে সরকারি ভাষা, ভাষার একচেটিয়াত্বে অনিচ্ছুক হলেও অভিবাসীরা সেই ভাষা রপ্ত করতে বাধ্য হয়। অস্ট্রেলীয় নাগরিকত্ব লাভের জন্য ইংরেজি জানা বাধ্যতামূলক।
* বিভিন্ন সময় রাজনীতিবিদদের হাতে সংখ্যালঘুর ভাষা কেবল উপেক্ষিত হয়নি, সে ভাষা ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধও হয়েছে। রাজনীতিবিদদের বক্তব্য—জাতীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় সংহতি বৃদ্ধির জন্যই তাঁরা এটা করেছেন। আবার ক্ষমতাসীন সংখ্যালঘু নেতার হাতে তাঁর ভাষার বিকাশ ও প্রচারও ঘটেছে।
* কোনটি সঠিক ভাষা? নদীয়া-শান্তিপুরের মানুষের মুখের বাংলা না ময়মনসিংহের মানুষের ভাষা? না নোয়াখালির?
(আবুল মনসুর আহমেদ পূর্ব বাংলার ভাষাকে প্রমিত বাংলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নদীয়া-শান্তিপুরের ভাষাই লেখার ভাষা টিকে গেছে। শিল্পী-সাহিত্যিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিন্ধান্তটি রাজনৈতিক।
* জাতীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠায় কখনো একটি ভাষার উপভাষাকেও রাষ্ট্রের দাপ্তরিক ভাষা ঘোষণা করা হয়েছে।
ভাষার রাজনৈতিক ব্যবহার ভাষা সৃষ্টিও করে—মেসিডোনিয়ান।
* নারী অধিকার প্রবক্তারা মনে করেন, পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই সর্বনাম He এবং She সৃষ্টি হয়েছে।
* বেলারুশিয়াতে ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদল ভাষায় ভিন্ন বানানপদ্ধতি ব্যবহার করে যাবে—এটিও ভাষা রাজনীতি।
* ঐতিহ্যবাহী চাইনিজ হরফ জটিল, সরল হরফের দাবি রাজনৈতিক দাবিতে পরিণত হয়েছে।
১৭৮টি দেশে কমপক্ষে একটি দাপ্তরিক ভাষা রয়েছে। ১০১টি দেশে দাপ্তরিক ভাষা একাধিক। ৬৭টি দেশে ইংরেজি দাপ্তরিক ভাষা, যার অধিকাংশ দেশের নাগরিকদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয়। বহুল স্বীকৃত ৪টি দাপ্তরিক ভাষার মধ্যে ইংরেজি ছাড়াও রয়েছে ফ্রেঞ্চ, আরবি এবং স্পেনিশ।
দাপ্তরিক ভাষার ধারণাটি রাজনৈতিক এবং আড়াই হাজার বছরের পুরনো খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ অব্দের কাছাকাছি সময়ে সম্রাট দানিউস যখন মেসোপটোমিয়াকে পারস্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন, রাজকীয় আরামায়িক বা দাপ্তরিক আরামায়িক নাম দিয়ে আরামায়িক ভাষার একটি সংস্করণকে যোগাযোগের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন। এই প্রতিষ্ঠা ঘটল ফরমানের মাধ্যমে।
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি দাপ্তরিক ভাষা বলিভিয়ায়—৩৭টি; দ্বিতীয় স্থানে ২৩টি ভাষা নিয়ে ভারতের অবস্থান।
বাংলা
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় অনুচ্ছেদে বাংলাকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা হয়েছে; ১৯৮৭ সালের বাংলা ভাষা প্রচলন আইনে রাষ্ট্রীয় কাজে বাংলা ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা জারি করা হয়েছে।
১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতি জারিকৃত একটি নির্বাহী আদেশ উল্লেখ করা সমীচীন :
‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। বাংলা আমাদের জাতীয় ভাষা। তবুও অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, স্বাধীনতার তিন বছর পরও অধিকাংশ অফিস আদালতে মাতৃভাষার পরিবর্তে বিজাতীয় ইংরেজি ভাষায় নথিপত্র লেখা হচ্ছে। মাতৃভাষার প্রতি যার ভালোবাসা নেই দেশের প্রতি তার ভালোবাসা আছে এ কথা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। দীর্ঘ তিন বছর অপেক্ষার পরও বাংলাদেশের বাঙ্গালি কর্মচারীরা ইংরেজি ভাষায় নথি লিখবেন এটা অসহনীয়। এ সম্পর্কে আমার পূর্ববর্তী নির্দেশ সত্ত্বেও এ ধরনের অনিয়ম চলছে। আর এ উশৃঙ্খলতা চলতে দেওয়া যেতে পারে না। এই আদেশ জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা ও আধাসরকারি অফিসে কেবলমাত্র বাংলার মাধ্যমে নতিপত্র ও চিঠিপত্র লেখা হবে। এ বিষয়ে কোনো অন্যথা হলে উক্ত বিধি লঙ্ঘনকারীকে আইনানুগ শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিভিন্ন অফিস আদালতের কর্তাব্যক্তিরা সতর্কতার সঙ্গে এ আদেশ কার্যকরী করবেন এবং আদেশ লঙ্ঘনকারীদের শাস্তির বিধান ব্যবস্থা করবেন।’
এ আদেশে সরকারি অফিসে নিম্ন আদালতে বাংলার ব্যবহার বেড়েছে, কিন্তু চাকরির বাজারে বাংলাজানা প্রার্থীর কদর একটুও বাড়েনি। এখানেও বাংলাবান্ধব একটি রাজননৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
