শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি ২০২২, ৭ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

সংকটকালেও প্রশংসা কুড়চ্ছে নার্সিং অধিদপ্তর

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯:২৩

করোনা কালীন সময়ে মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে ঢেলে সাজানো হয়েছে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর। সেবা ও মানবিকতা দিয়ে করোনা মহামারির সংকটকালেও প্রশংসা কুড়চ্ছে। ২০২০ সালের মার্চের শুরুতে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর সারাদেশে সৃষ্টি হয় এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। করোনা নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িতদের মাঝেও তৈরি হয় অজানা আতঙ্ক। অদেখা ভাইরাস আতঙ্কে মানুষ হয়ে পড়েন ঘরবন্দি। তখন থেকেই স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে সারাদেশে একদিকে চলছে নার্সিং সেবা কার্যক্রম, অন্যদিকে চলছে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নার্সিং কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের প্রচেষ্টা। আর এই কার্যক্রমে গতি আনতে কোভিড ঝুঁকিতেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সিদ্দিকা আক্তার।

কোভিড আক্রান্তদের সেবায় ভীতি কাটাতে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে নার্সিং কর্মকর্তাদের মধ্যে সাহস যোগান। নার্সিং পেশায় বিরাজমান নানা সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে তাদেরকে উৎসাহ দেন। করোনাকালীন সময়ে এর ইতিবাচক ফলও মিলে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মহাপরিচালক হিসেবে যোগদানের পর সিদ্দিকা আক্তার ১০ হাজার নার্সের পদ সৃজনসহ ৫ হাজার ৭৫ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ প্রদান এবং শূণ্যপদসহ আরও ৮ হাজার ২৮৮ জন নার্সের পদায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্নের উদ্যোগ নেন।

দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ হাজার মিডওয়াইফের পদ সৃজনের প্রস্তাবনা পাঠায় ও ১ হাজার ৪০১ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। অধিদপ্তরের কার্যক্রমে আরও গতি আনতে উদ্যোগ নেয়া হয় প্রশাসনিক বিকেন্দ্রিকরণের। গেল বছরের জুন থেকে নিজস্ব নতুন ভবনে শুরু হয়েছে অধিদপ্তরের কার্যক্রম।

স্থাপন করা হয়েছে বেবি কর্ণারসহ ৩শ’ সিটের অত্যাধুনিক ডিজিটালাইজড অডিটোরিয়াম, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং নার্সিংয়ের প্রবক্তা ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের মূর‌্যাল ও বঙ্গবন্ধু কর্ণার। ডিজিটালাইজেশনের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল নার্স, মিডওয়াইফ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনলাইন ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। শক্তিশালী ও জোরদার করা হয়েছে ই-নথি কার্যক্রম।

অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশের নার্সিং শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনে করোনাকালীন সময়েও বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়। নার্সিং শিক্ষায় একই মান বজায় রাখতে সকল সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি প্রতিষ্ঠানে একই মানের অধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ সৃজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া ১৩টি নার্সিং কলেজের পূর্ণাঙ্গ জনবলের পদ সৃজনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নার্সিং শিক্ষার প্রসারে ২০২০ সালের চেয়ে নার্সিংয়ে ৪ হাজার ৩০৫ ও মিডওয়াইফে ২ হাজার ১৩৫টি ভর্তির আসন বৃদ্ধি করা হয়েছে। নার্সিংয়ে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নিয়েনারে ৬০টি আসন বৃদ্ধিসহ সরকারি আরও ১০টি নার্সিং কলেজে এমএসসি নার্সিং, ৫টিতে ২ বছর মেয়াদী পোস্ট বেসিক নার্সিং ও ৪টিতে পোস্ট বেসিক বিএসসি মিডওয়াইফারি চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

দেশে বিদ্যমান নার্সিং কলেজ ও ইন্সটিটিউটের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের ৭টি নার্সিং কলেজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। খাগড়াছড়িতে নির্মাণ করা হয়েছে একটি আধুনিক নার্সিং কলেজ। এছাড়া পিপিপি এর আওতায় ঢাকার মহাখালিতে ইউনিভার্সেল নার্সিং কলেজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল আলী সাদেক জানান, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার দায়িত্ব নেয়ার পর করোনা সংকটকালীন সময়েও বেশি গুরুত্ব দেন দেশের নার্সদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে। সেই লক্ষ্যে তিনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকেও বিকেন্দ্রিকরণ করেন। আগে যেসব প্রশিক্ষণ ঢাকায় হতো, সেসব প্রশিক্ষণ বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজনের উদ্যোগ নেন। করোনাকালীন সময়ে দেশের ১১টি প্রশিক্ষণ ভেন্যুতে ৪৮০ জন নার্সকে ২৮ দিনব্যাপী আইসিইউ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আরও ১২শ’ জনকে একই প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজ চলমান রয়েছে। পেশাগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় ৩ হাজার নার্সকে ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ এবং ৮শ’ নার্স ও মিডওয়াইফকে ‘ইনফেকশন প্রিভেনশন এন্ড কন্ট্রোল’ এর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ২০২০-২১ অর্থ বছরে অপারেশনাল প্লানের অধীনে ১২শ’ নার্সকে আইসিইউ, ৬শ; জনকে আইপিসি, ২১০ জনকে পেডিয়াট্রিক, ৯ হাজারকে ফাউন্ডেশন, ১৬০ জনকে ইংরেজি ভাষা, ১২০ জনকে কম্পিউটার, ১২০ জনকে অর্থ ব্যবস্থাপনা, ১২০ জনকে গেরিয়াট্রিক নার্সিং প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 

বিএনএ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার সভাপতি শাহাদাতুন নূর লাকি জানান, দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রমে সমতা আনার লক্ষ্যে অভিন্ন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। দক্ষ শিক্ষক গড়ে তুলতে জাতীয় পর্যায়ে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষণ কলেজ নির্মাণের প্রস্তাব করেছে অধিদপ্তর। প্রস্তাব করা হয়েছে স্বতন্ত্র নার্সিং ও মিডওয়াইফারি ইউনিভার্সিটি স্থাপনের। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের উদ্ধুদ্ধ করতে স্টাইপেন্ড বৃদ্ধিসহ প্রতি বছর কৃতি ৩ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেয়ার প্রথা চালু করা হয়েছে। গেল দুই অর্থবছরে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য ২ জনকে দক্ষিণ কোরিয়া, ৩ জনকে থাইল্যান্ড ও ১ জনকে জাপানে পাঠানো হয়েছে।

বিএনএ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন জানান, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার দায়িত্ব নেয়ার পর সরাসরি সাক্ষাতকারের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত কর্মস্থলে বদলি হয়েছেন ৩ হাজার ৯৪ জন নার্স। আইসিইউ প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ২ হাজার ৩৪ জন এবং নার্স ও মিডওয়াইফ শিক্ষক হিসেবে পদায়িত হয়েছেন ২৫০ জন। বদলি বাণিজ্য ও দালালদের দৌরাত্মের যে বদনাম ছিল বর্তমান মহাপরিচালকের সময়ে সেই কলঙ্কমুক্ত হয়েছে অধিদপ্তর- এমন দাবি নার্সিং কর্মকর্তাদের।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সার্জেন্ট টাকা চাননি, ক্ষমা চেয়েছেন সেই বিদেশি

সিএনজিকে বাসের ধাক্কা, এক পরিবারের ৩ সদস্য নিহত

বাস থেকে ফেলে যাত্রী হত্যা: ২ জনকে আটক

চিরনিদ্রায় শায়িত কাজী আনোয়ার হোসেন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ওয়ারীতে বাস থেকে ফেলে যাত্রীকে হত্যার অভিযোগ

প্রথমবার পিএসসি কোর্স সম্পন্ন করলেন ৩ পুলিশ কর্মকর্তা 

সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজে গ্র্যাজুয়েশন সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত

মায়ের কবরেই সমাহিত হবেন কাজী আনোয়ার হোসেন