সৈয়দপুর বিমানবন্দর: গেট সুরক্ষিত, রানওয়ে অরক্ষিত

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৫০

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৬ হাজার ৮০০ ফুট রানওয়ে রয়েছে। এর চারপাশ জুড়ে রয়েছে ৭ ফুট উঁচু নিরাপত্তা বেষ্টনী। পাকা দেওয়াল। তার ওপর আবার তারকাটার বেড়া (ফেন্সিং)। এত কিছুর পরও নিশ্ছিদ্র করা যায়নি রানওয়েকে। গরু-ছাগল ঢুকতে না পারলেও তারকাটার বেড়া ফাঁক করে বাঁশের মই বেয়ে ভেতরে প্রবেশ করে মানুষ। এতে দুর্ঘটনা-নাশকতার আশঙ্কা থাকছেই।

সরেজমিনে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ওপর প্রান্তে পশ্চিমপাড়া, চৌধুরী পাড়া, মণ্ডলপাড়া, নিউ মুন্সিপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায় এসব দৃশ্য। কয়েক জায়গায় রয়েছে তারকাটা বেড়ায় বড় বড় ফাঁক। গ্রামবাসী নিজেদের স্বার্থে ঐ বেড়া ফাঁক করে রেখেছেন। বাঁশের মই ব্যবহার করে ঐ ফাঁক গলে গ্রামের মানুষ ঢুকে পড়েন রানওয়েতে। রানওয়ের পাশের জমি থেকে কেটে আনেন ঘাস।

চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা এহসান চৌধুরীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, একাধিক স্থানে দেওয়াল ভাঙা ছিল গত বছর। তখন রানওয়েতে অবাধে গরু ছাগল প্রবেশ করত। দেওয়াল সংস্কারের পর গরু-ছাগল প্রবেশ বন্ধ হয়েছে। তবে অভিনব কায়দায় ঢুকে পড়ছে মানুষ। তাদের হাতে থাকে ঘাস কাটার কাস্তে। তা দিয়ে রানওয়ের পাশের জমি থেকে ঘাস কেটে আনেন তারা। গ্রামবাসী সেজে অনুরূপ কায়দায় রানওয়েতে দুর্বৃত্ত ঢুকতে পারেন বলে আশঙ্কা তার। তিনি মনে করেন, এমনটি হলে বিমানবন্দরে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

পশ্চিমপাড়া-সংলগ্ন বিমানবন্দর এলাকার মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা নবী আলম মণ্ডল বলেন, নিরাপত্তাকর্মীদের সামনেই ঘাস কাটার প্রতিযোগিতা চলে। বিমানবন্দরকে নিরাপদ করতে ঐ ঘাস কাটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, আমি দেখেছি এলাকার অনেক মানুষ গরু-ছাগলের জন্য ঘাস কেটে আনছেন। বাড়ি বাড়ি খুঁজলেই পাওয়া যাবে বাঁশের মই। এসব মই নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হতে কাজে লাগে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গত ১ ডিসেম্বর কক্সবাজার বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়াজাহাজ উড্ডয়নকালে গরুর সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে মারা যায় দুটি গরু। ঐ ঘটনার পর দেশের সবগুলো বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার কারণে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে। এ বিমানবন্দরে গরু-ছাগল প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। সিভিল অ্যাভিয়েশন সূত্র জানায়, সৈয়দপুর বিমানবন্দরের নিরাপত্তার ব্যবস্থায় একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৫৭ জন এপিবিএন সদস্য, ৪৭ জন আনসার সদস্য ও সিভিল অ্যাভিয়েশনের ১৯ নিরাপত্তা কর্মী কাজ করছেন।

অ্যারোড্রাম অফিসার মজিবুর রহমান জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে ব্যস্ততম হলো সৈয়দপুর। সৈয়দপুর-ঢাকা, সৈয়দপুর-চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুর-কক্সবাজার রুটে এ বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন ১৫টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। কেবল বিমানযাত্রী, পাশ ও পরিচয়পত্রধারী ছাড়া বিমানবন্দরে কারো প্রবেশের সুযোগ নেই। আর রানওয়েতে প্রবেশের প্রশ্নই ওঠে না।

অবশ্য রানওয়ের পাশের জমিতে গ্রামবাসীর ঘাস কাটতে আসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সুপ্লব কুমার ঘোষ। এমন পরিস্থিতিতে বিমান দুর্ঘটনা কিংবা নাশকতা ঘটতে পারে কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তৎপর আছি। বিমানবন্দরের যাবতীয় ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রয়েছে। সার্বক্ষণিক তদারকি চলছে। বিমানবন্দরের প্রতিটি কর্মী দায়িত্ব নিয়েই কাজ করছেন। গত দুই মাস আগে বিমানবন্দরে অনুপ্রবেশের অভিযোগে সৈয়দপুর থানায় একটি মামলাও করা হয়েছে। এতে এক ব্যক্তি গ্রেফতারও হয়েছেন। দু-একদিনের মধ্যে ঘাস কাটা বা অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/এমআর