খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সেতাবগঞ্জ চিনিকল

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:০১

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ চিনিকল। গত মৌসুম থেকে বন্ধ রয়েছে আখ মাড়াই। চিনিকলটির শ্রমিক-কর্মচারী ও স্থানীয় আখচাষিদের আশঙ্কা, যে কোনো সময় পুরাপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ থাকার পরও বন্ধ রয়েছে প্রায় ৯০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত সেতাবগঞ্জ চিনিকলটি। গত আখ মৌসুমে দেশের যে ছয়টি চিনিকলের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন, তার মধ্যে অন্যতম এটি। পুরাপুরি মিলটি বন্ধের আশঙ্কায় হতাশায় রয়েছেন এই মিলের শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষিরা।

সেতাবগঞ্জ চিনিকলে এবার চাষি ও কৃষিখামার পর্যায় ৫ হাজার একর জমিতে আখ রোপণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে আখ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪৫ হাজার মেট্রিক টন। চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের সিদ্বান্তে গত মৌসুম থেকেই সেতাবগঞ্জ চিনিকলে আখ মাড়াই বন্ধ। এতে পাঁচ উপজেলার আখচাষি আর শ্রমিক কর্মচারীদের মাঝে হতাশা আর ক্ষোভ বিরাজ করছে। আখ নিয়ে তারা যাবেন কোথায়। এমন দুশ্চিন্তায় আখচাষিরা। মিলটি বন্ধ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ শ আখচাষি। বেকার হয়ে পড়বেন সাত শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী। মিলটিতে আখ মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসেন শ্রমিকরা।

সেতাবগঞ্জ চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি প্রশান্ত কুমার চৌহান ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আলী জানান, মিলটি চালুসহ বকেয়া পরিশোধ এবং আখ মাড়াই বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

সেতাবগঞ্জ আখচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সেতাবগঞ্জে চিনিকলের কারণে এই এলাকায় কোটি কোটি টাকার লেনদেন হতো। চিনিকলের কারণে সেতাবগঞ্জের বিভিন্ন মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতো। কিন্তু হঠাৎ করে গত মৌসুমে আখ মাড়াই বন্ধ হওয়ার পর এই এলাকায় অর্থনৈতিক ধস নেমেছে। অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। উন্নতজাতের আখ চাষের ব্যবস্থা করে চিনিকলটি পুনরায় চালুর দাবি জানান তিনি। এতে উপকৃত হবে আখচাষিসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

সেতাবগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবির জানান, সেতাবগঞ্জ চিনিকল পুনরায় চালুর জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সেতাবগঞ্জ চিনিকল ১৯৮২ সালে আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে আবার যাত্রা শুরু করে। মিল এবং মিলের খামার এলাকাসহ সাড়ে ৩ হাজার ৮৬০ একর জমি নিয়ে এই মিলটিতে কর্মরত রয়েছে ৭৫০ জন শ্রমিক-কর্মচারী। গত মৌসুম থেকে সেতাবগঞ্জ চিনিকল এলাকায় উৎপাদিত আখ মাড়াই করা হচ্ছে ঠাকুরগাঁও চিনিকলে। বন্ধ রাখা হয়েছে সেতাবগঞ্জ চিনিকলের আখ মাড়াই।

ইত্তেফাক/এমআর