শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি ২০২২, ৭ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

ঘণ্টায় লেনদেন শতকোটি টাকা ছাড়িয়েছে

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৪১

করোনা প্রকোপ শেষ হয়ে হচ্ছে না শেষ। ফলে এখনো স্বাভাবিক হচ্ছে না মানুষের জীবনযাত্রা। এমন পরিস্থিতিতেও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য আর্থিক লেনদেন করতে হচ্ছে। দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে মানুষ এখন মোবাইল ব্যাংকিং নির্ভর হয়ে উঠেছে।

এতে অনলাইনে কেনাকাটা থেকে শুরু করে, ইউটিলিটি বিল প্রদান, চাকরির বেতন পর্যন্ত সবই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হচ্ছে। এছাড়া প্রণোদনার অর্থ প্রদান, বৃত্তি ও উপবৃত্তিসহ সরকারি বিভিন্ন ভাতা প্রদানও হচ্ছে এ মাধ্যমে।

আর যখন খুশি টাকা ওঠানো, টাকা পাঠানো, মোবাইল ফোনে রিচার্জ করার মতো সুবিধা তো রয়েছেই। এখন ব্যাংক থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা নেওয়া কিংবা ব্যাংকে পাঠানোর সুবিধা হওয়ায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পরিধি বেড়েছে।

মূলত, ব্যাংকে যাওয়ার ঝামেলা কমাতেই মানুষ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে। ব্যাংকের লাইনে দাঁড়ানোর বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি মিলছে মানুষের। দিন যত গড়াচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে।

বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণও। বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকরা ৬৫ হাজার ১৪১ কোটি টাকা লেনদেন করেছেন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ২ হাজার ১৭১ কোটি টাকা।

আগস্টে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ২ হাজার ৭ কোটি টাকা। ঐ মাসে মোট লেনদেন হয়েছিল ৬২ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। তবে ডাক বিভাগের সেবা নগদের তথ্য এই হিসাবে আসেনি।

নগদের তথ্য যোগ হলে মোট লেনদেন আরো ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার কোটি টাকা বেড়ে যাবে। দৈনিক লেনদেন বাড়বে ৭৫০ কোটি টাকার মতো। এ হিসাবে দেশে এমএফএসে দৈনিক লেনদেন হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার মতো। ঘণ্টায় লেনদেনের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার বেশি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে ১৩টি ব্যাংক। গত সেপ্টেম্বরে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ক্যাশ ইন হয়েছে হয়েছে ১৯ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। এ সময়ে ক্যাশ আউট হয়েছে ১৬ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। আলোচিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে সেন্ড মানি করা হয়েছে ১৯ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা।

গত সেপ্টেম্বরে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে কেনাকাটার বিল পরিশোধ হয়েছে ২ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। ঐ সময়ে সামাজিক নিরাপত্তার ভাতা প্রদানের পরিমাণ কমে ১৯ কোটি ২০ লাখ টাকা হয়েছে। ২ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা কর্মীদের বেতন-ভাতা প্রদান, ৬৫২ কোটি টাকা মোবাইল ফোনের ব্যালান্স রিচার্জ ও গ্যাস-বিদ্যুত্-পানিসহ বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ বাবদ ১ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে এমএফএস সেবায় ১১ লাখ ৪২ হাজার এজেন্ট যুক্ত রয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায়। নিবন্ধিত গ্রাহক ১০ কোটি ৬৪ লাখ ৭১ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ৩ থেকে ৪ কোটি হিসাবে প্রতি মাসে নিয়মিত লেনদেন হয়। নগদ সূত্রে জানা গেছে, এ প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ৫ কোটি ৭০ লাখ। আর এজেন্ট রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোবাইল ব্যাংকিং বা এমএফএসে লেনদেন কয়েকটি কারণে বেড়েছে। করোনা ভাইরাসের মধ্যে যেটুকু ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে তার লেনদেনও অনেকাংশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হচ্ছে। মানুষ আগের চেয়ে বেশি অনলাইন কেনাকাটা করছে।

অনেক প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বেতন দিচ্ছে। মানুষ ক্রেডিট কার্ডের বিলসহ ব্যাংকিংয়ের অনেক সেবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিচ্ছে। আর সম্প্রতি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন ভাতা, প্রণোদনার অর্থ, বৃত্তি ও উপবৃত্তির অর্থ দেওয়া শুরু হয়েছে। আগে স্বল্প পরিসরে হলেও ইদানীং তার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নানামুখী ব্যবহারের আর সহজলভ্য হওয়ায় কারণে জনপ্রিয় হওয়ায় গ্রামীণ জনজীবনকে অনেক সহজ হয়েছে। এ সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই অনেক কাজ করা যাচ্ছে। বাস, ট্রেনের টিকিট থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন পরিশোধ করা যাচ্ছে মানুষের হাতের মুঠোয় থাকা ছোট্ট যন্ত্রটির মাধ্যমে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যেসব কাজ করা যায় সেগুলো হলো, রেমিট্যান্স পাঠানো, ক্যাশ ইন ক্যাশ আউট, একজনের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্যজনের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো, ইউটিলিটি বিল দেওয়া, মোবাইল ফোনের এয়ার টাইম কেনা, পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট পেমেন্ট, সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেতন দেওয়া, মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা, বিমা প্রিমিয়াম, ডিপিএস দেওয়া যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, সুবিধাবঞ্চিতদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং চালুর অনুমতি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরের বছর পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু হয়। ১৯৯৯ সালে ইউরোপিয়ান ব্যাংকে সর্বপ্রথম মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু হয়। মূলত, স্মার্টফোন উদ্ভাবনের পরে মোবাইল ওয়াপ (ওয়্যারলেস অ্যাপ্লিকেশন প্রটোকল) পদ্ধতির মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং শুরু হয়।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা মোবাইল অপারেটর ভিত্তিক হলেও বাংলাদেশে এ সেবা ব্যাংকভিত্তিক। ব্যাংকগুলো বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এ সেবা দিচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ১৫টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক প্রথম এ সেবা চালু করলেও এখন সবচেয়ে এগিয়ে আছে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশ। এর বাইরে ডাক বিভাগের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা নগদ ব্যবসায়িক দিক থেকে দ্রুত এগোচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

আস্থা লাইফ-এর বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়বে না ভোজ্যতেলের দাম

আবারও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন

নির্মাণসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়নকাজ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

হায়ার বাংলাদেশ ও বাটারফ্লাই গ্রুপের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর

জ্বালানি থেকে বাড়তি টাকা তুলে সড়ক সংস্কার করা হবে 

টেলিটক-সামিট টাওয়ার্সের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর