সোমবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

খোলাবাজারে বন্ড সুবিধার পণ্য বিক্রি থামছে না

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:২৫

বন্ড সুবিধায় আনা পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি থামছে না। বন্ডের অপব্যবহার রোধে আইন প্রয়োগের শৈথিল্যও দায়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কখনো কখনো অভিযান চললেও জোরালো পদক্ষেপ না থাকায় অব্যাহতভাবেই চলছে বন্ডের আওতায় আনা কাঁচামাল বিক্রি। এতে সরকার রাজস্ব হারালেও একশ্রেণির রাঘববোয়ালরা দাপটেই চালাচ্ছে এই ব্যবসা—এমনটিই বলেছে রাজস্ব প্রশাসনের সূত্রগুলো। সূত্রমতে, কখনো রাজস্ব কর্মকর্তাদেরও হুমকিধমকি কিংবা বদলি করার সক্ষমতাও রাখে এদের কেউ কেউ। বন্ডের অপব্যবহারের নেপথ্যে প্রভাবশালী কেউ কেউ জড়িত। তবে অভিযান চালিয়ে প্রায়শই মালামাল উদ্ধার করা হচ্ছে।

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকিও চলছে দেদার। এমনকি মানি লন্ডারিংও হয়ে থাকে এই প্রক্রিয়ায়, যা বিশদ তদন্তের দাবি রাখে রাজস্ব কর্মকর্তারা বলছেন, ধরা পড়লে কর ফাঁকি ও মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, বন্ড সুবিধার পণ্য যথাযথভাবে ঘোষণা না দিয়ে খোলাবাজারে ক্রয়-বিক্রয় করা ভ্যাট ও কাস্টমস আইন অনুসারে অপরাধ। এদিকে একই অপরাধে জড়িত এক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। ঢাকার লালবাগের নাহিদ এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানটি বন্ডের পণ্য বাইরে বিক্রি করে শুধু ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে পৌনে তিন শ কোটি টাকার| ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর সোমবার নাহিদ এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা করেছে। পাশাপাশি চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকিসংক্রান্ত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও আয়কর ফাঁকির অভিযোগ তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো। 

জানা গেছে, নাহিদ এন্টারপ্রাইজের ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের ভ্যাট-সংক্রান্ত দলিলাদি চেয়ে কয়েকবার চিঠি দেওয়া হলেও গুরুত্ব না দিয়ে বরং কালক্ষেপন করেছে।  তদন্ত কাজে সহযোগিতা না করায় ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের উপপরিচালক তানভীর আহমদের নেতৃত্বে ভ্যাটের কাগজপত্র জব্ধ করা হয়। তদন্তে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট চালান ব্যতীত সেবা দিয়ে যথাযথ রাজস্ব পরিশোধ না করে প্রকৃত বিক্রির তথ্য  গোপন করেছে। এই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধন করেছে। 

২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত প্রায় ৫ বছরে প্রতিষ্ঠানটি দাখিলপত্রে বিক্রয়মূল্য প্রদর্শন করেছে ২৯১ কোটি ৮৯ লাখ ৬৬ টাকা। কিন্তু জব্দ করা দলিলাদির ভিত্তিতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত বিক্রয়মূল্য এক হাজার ৫৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬৩ হাজার ২২ টাকা। যার মধ্যে ভ্যাট আরোপযোগ্য বিক্রয়মূল্য ছিল এক হাজার ৩৩৯ কোটি ৩৬ লাখ ২০ হাজার ১৯ টাকা। অর্থ্যাৎ প্রতিষ্ঠানটি এক হাজার ৪৭ কোটি ৪৭ লাখ ১৯ হাজার ৯৫৪ টাকার প্রকৃত বিক্রয়মূল্য গোপন করেছে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি নানা ধরণের অবৈধ লেনদেনে জড়িত থাকার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে তদন্তদলের কাছে। অবৈধ বন্ডেড পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের অর্থ লেনদেন সংঘটিত হয়েছে প্রাইম ব্যাংকের মৌলভীবাজার শাখা ও উত্তরা ব্যাংকের চকবাজার শাখায় থাকা ব্যাংক হিসাবে। পুরো প্রক্রিয়ায় চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি সংশ্লিষ্ট মানি লন্ডারিং অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে অনুসন্ধান টিম নিশ্চিত হয়েছে। আয়কর ফাঁকির বিষয়টি তদন্ত করতে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। 

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

জরিমানার অর্থ জমা হচ্ছে না রাষ্ট্রীয় কোষাগারে

বিশ্বব্যাপী বৈদেশিক বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ৭৭ শতাংশ :আঙ্কটাড

 জুন পর্যন্ত ঋণ শ্রেণীকরণ সুবিধা চায় ব্যবসায়ীরা

টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে ‘সাকু‌র্লার ইকোনমি’র বিকাশ জরুরি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

নির্মাণসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়নকাজ

জ্বালানি থেকে বাড়তি টাকা তুলে সড়ক সংস্কার করা হবে 

ওমিক্রন শঙ্কায় অর্থনীতিতে ফের অনিশ্চয়তা

যে কারণে ওঠানামা করে তেলের দাম