মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ৪ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

কেন এমন কদর্য ব্যাটিং, শান্ত বললেন এখনো খেলায় হারেননি

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩:৫৬

বৃষ্টির কারণে ম্যাচের বয়স খুব বেশি বাকি নেই। পাকিস্তানের রানটাও নেহায়েত পাহাড় সমান রূপ পায়নি। উইকেটও ব্যাটিং সহায়ক। কিন্তু চিরচেনা উইকেটে এমন কদর্য ব্যাটিং কেন? সুস্পষ্ট পরিকল্পনা, প্রয়োগের অভাব ব্যাটিংয়ে। যেন একটা নবীন দল অভিজাত ফরম্যাটে এসে হাবুডুবু খাচ্ছে।

মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) মিরপুর স্টেডিয়ামে অন্ধকারাচ্ছন্ন বিকেলে পাকিস্তানের স্পিনারদের সামনে আত্মহননের পথ ধরলেন ব্যাটাররা। ছাতার মতো ঘিরে থাকা ফিল্ডারদের আক্রমণের তোড়ে সরাতে গেলেন। পাগলাটে ব্যাটিংয়ে দলকে ডুবিয়ে দিলেন সবাই মিলে।

দলের ভরসা হয়ে উঠতে পারেননি অধিনায়ক মুমিনুল হক

তরুণ মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান সামলাতে পারেননি সাজিদ খান-নুমান আলিদের স্পিন। কিন্তু অভিজ্ঞ মুশফিক, লিটনও যে অমার্জনীয় ভুলের পথে পা বাড়ালেন। প্রথম ইনিংসে ফলো অন থেকে আরও ২৫ রান দূরে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন শেষে সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৭৬ রান। ভরসা হয়ে টিকে আছেন ২৩ রান করা সাকিব ও সঙ্গে শূন্য রানে তাইজুল।

আলোর স্বল্পতায় ১ ওভার পরই পেস বোলার সরিয়ে নিতে হয় পাকিস্তানকে। তৃতীয় ওভারেই জয় খোঁচা দিয়ে ফিরলেন। কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দেন সাদমান। চট্টগ্রামে ব্যাট হাতে ব্যর্থ অধিনায়ক মুমিনুল রানআউট হলেন অযথা তাড়াহুড়ো করে।

জীবন পেয়েও শান্ত ব্যাকফুটে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন

আগের বলেই কাভার অঞ্চল দিয়ে চার মারলেন মুশফিক। পরের বলটাই স্লগ সুইপে শর্ট মিড উইকেটের নাকের ডগায় ক্যাচ দিলেন তিনি। দলকে ঠেলে দিলেন খাদের কিনারে। দলের এমন বিপদেও লিটন-শান্তরা থামেননি। আগ্রাসী ব্যাটিংয়েই খুন করলেন দলকে। লিটন দিলেন রির্টান ক্যাচ, জীবন পেয়েও শান্ত ব্যাকফুটে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন। সবারই যেন দ্রুত রান তোলার তাড়া। সুইপ শটের প্রাণান্ত চেষ্টার শেষ বলি মিরাজ।

দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত মানলেন না যে, সবাই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সবাই অনেক বেশি আগ্রাসী খেলেছি তা কিন্তু না। যে যে শট পারে সেটা খেলতে গিয়ে হয়তো বাস্তবায়ন হয়নি। এমন নয় যে সবাই অনেক বেশি আগ্রাসী খেলেছে।’

দুই অপরাজিত ব্যাটার সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলাম

উইকেট নাকি ব্যাটিংয়ের জন্য দুরূহ হয়ে পড়েছিল। সেখানে ডিফেন্স করে টিকে থাকা কঠিন। ফিল্ডিং সেটআপ ছড়িয়ে দিতে আক্রমণই ছিল মূল অস্ত্র। শান্ত’র মতে এখনো ম্যাচ বাঁচানো সম্ভব। তিনি বলেন, ‘অসম্ভব কিছু না। খেলায় হেরে গেছি এরকম কিছু না। এখান থেকে ম্যাচ বাঁচানো সম্ভব।’

যদিও টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন রীতিমতো বিরক্ত এমন ব্যাটিং দেখে। সবার মতোই তারও প্রশ্ন, কেন এত অধৈর্য্য ব্যাটাররা? সুজন বলেছেন, ‘আমি ওপর থেকে খেলা দেখেছি। কেন এমন হলো জানি না? অধৈর্য্য ব্যাপারটা ছিল, টেস্ট ব্যাটিং বলতে যা বুঝায় সেরকম তো ব্যাটিং করিনি আমরা। কেন এই ব্যাপারটা হচ্ছে সেটা চিন্তার বিষয়?’

ইত্তেফাক/টিএ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

কোহলির জায়গায় পান্টকে চান গাভাস্কার

উইলিয়ামসের সেঞ্চুরিতেও রক্ষা পায়নি জিম্বাবুয়ে

সাকিবকে ঘিরেই আশাবাদী বরিশাল

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন কোহলি

জাদুমন্ত্র নয় দলীয় চেষ্টায় সফলতা: মুমিনুল

যুবাদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার মিশন শুরু আজ