স্কয়ার হাসপাতালের ১৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে করোনা বিজয়ী বিশিষ্টজনের অভিজ্ঞতা বিনিময়

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:০২

‘কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে আমি ৯ দিন এ হাসপাতালে ছিলাম। হাসপাতালে আসার আগে জেনেছিলাম, করোনা আক্রান্ত রোগীর কাছে চিকিৎসক আসেন না, দূর থেকে দেখে যান। কিন্তু স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তির পর, চিকিৎসক, নার্স, সকাল-বিকাল, রাত কাছে এসেছেন। ভালোবেসে খাবার খাইয়েছেন...’—কথাগুলো বলছিলেন করোনা বিজয়ী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক রায়হান প্রতিদিন আমার কাছে আসতেন। কিন্তু এক দিন তিনি আমার কাছে এসে বললেন, একটি জিনিস আপনার কাছে চাইব, আপনি অনেক প্রার্থনা করে দেন, যেন কোভিড আক্রান্ত রোগীদের কষ্ট লাঘব হয়, অনেক প্রার্থনা দরকার...।’ ডি রোজারিও বলেন, ‘সেদিন এক জন চিকিৎসকের যে আকুতি তার রোগীদের সুস্থতার জন্য ছিল, তা আমাকে আবেগপ্রবণ করেছিল। আমি আমার অন্তর দিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছিলাম।’

গতকাল স্কয়ার হাসপাতালের ১৫ বছর পূর্তি ‘করোনা বিজয়ী রোগীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়’ অনুষ্ঠানে এমন অনেক আবেগপ্রবণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বিশিষ্টজন। রাজধানীর পান্থপথ স্কয়ার হাসপাতালের অডিটরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন—স্কয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতে করোনার চিকিৎসা দিতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা চিকিৎসক ও নার্সদের স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে কোভিড বিজয়ী পঞ্চাশের অধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ চৌধুরী, এনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও কোভিড রোগীদের চিকিত্সাকালীন সময়ের চিকিৎসক রায়হান রাব্বানি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. শৈলী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তপন চৌধুরী বলেন, ‘আজ আমার খুশির দিন। যারা কোভিডে আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে সেবা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন এবং যারা সেবা দিয়েছেন। আবার আমরা সবাই একসঙ্গে হতে পেরেছি।’

মতিউর রহমান স্কয়ারের প্রতিষ্ঠাতা স্যাংমসন চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তার যে বৃহৎ কর্মযজ্ঞ তা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তার সুযোগ্য পুত্ররা। নার্স ও চিকিত্সকদের বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি