বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

মধ্যপ্রাচ্যগামী এয়ারলাইনসের ৩ গুণ ভাড়া বৃদ্ধি!

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:২৮


অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যগামী এয়ারলাইনসগুলো সিন্ডিকেট করে অনৈতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলকভাবে তিন গুণ ভাড়া বাড়িয়েছে। 

যে কারণে অভিবাসীকর্মীরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। অভিবাসন ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া ব্যয় করে যথাসময়ে কর্মস্থলে যাওয়া অভিবাসীকর্মীদের পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনতিবিলম্বে বিদেশগামী কর্মীদের বিমানভাড়া সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণ করতে হবে। 

গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টনস্থ একটি হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আটাবের সভাপতি মনছুর আহামেদ কালাম। এতে জানানো হয়, ঢাকা থেকে এক জন প্রবাসী শ্রমিককে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে সৌদি আরব যেতে ৭৫ হাজার টাকার বেশি প্লেন ভাড়া দিতে হচ্ছে। কোনো ট্রাভেল এজেন্সিকে গ্রুপ ফেয়ার দিচ্ছে না বিমান। একই রুটে সৌদি এয়ারলাইনসের একমুখী ভাড়াও ৭৪ থেকে ৭৫ হাজার টাকা। অথচ আগে এ ভাড়া ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এ বছরের নভেম্বর মাসেই একমুখী ভাড়া ছিল প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। অযৌক্তিক কারণে এয়ারলাইনসগুলো এ ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। আগে দুবাইয়ের ভাড়া ছিল ৪০ হাজার টাকা, বর্তমানে এমিরেটসে দুবাই যেতে ৮৭ হাজার টাকা লাগে। ওমানের মাস্কাটে আগে একমুখী ভাড়া ছিল ৩৫ হাজার টাকা, বর্তমানে সব এয়ারলাইনস ৭২ হাজার টাকা নিচ্ছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত ভাড়া বহন করা ও যথাসময়ে কর্মস্থলে যাওয়া অভিবাসীদের জন্য প্রায় অসম্ভব ও কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিমানসহ বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর এমন অতিরিক্ত ভাড়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। সময়মতো ফিরতে না পেরে চাকরি হারাচ্ছেন অনেকে। 

সংবাদ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে এয়ারলাইনসের টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও আসনসংকট রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম, আটাবের সহসভাপতি মোহাম্মদ জুম্মন চৌধুরী, এন সি বৈরাগী বাবু, মহাসচিব মাজহারুল হক ভূঁইয়া, বায়রার সাবেক শীর্ষ নেতা কে এম মোবারক উল্লাহ শিমুল, রিক্রুটিং এজেন্সিজ ঐক্য পরিষদের সভাপতি এম টিপু সুলতান প্রমুখ।

আটাব সভাপতি মনছুর আহামেদ কালাম বলেন, ‘দেশের ও বিদেশের প্রায় সব এয়ারলাইনসের টিকিটের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করেছে এয়ারলাইনসগুলো, এতে এজেন্সিগুলোর কোনো প্রভাব নেই। বাংলাদেশের রুটে ফ্লাইটের ভাড়া বৃদ্ধি করলেও পাশের দেশগুলোতে (ভারত, নেপাল) ভাড়া তুলনামূলক কম। ভাড়া বৃদ্ধির কারণে অনেকে কাজে ফিরতে পারছে না। এমন পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’ 

এ সংকট সমাধানে চারটি প্রস্তাব দিয়েছে আটাব। প্রস্তাবগুলো হলো—এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি করা, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এয়ারলাইনসগুলোর অতিরিক্ত স্পটের অনুমোদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, প্রবাসী কর্মীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ভাড়া ঘোষণা করা এবং এয়ারলাইনসগুলোর অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধে রেগুলেটরি বোর্ড গঠন করা। দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। 


 

ইত্তেফাক/ইউবি