‘ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান’

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৪১

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ভাষা আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন মূলত উদীয়মান মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। পাট ব্যবসা থেকে আসা উদ্বৃত্তের জোরে তারা মধ্যবিত্তের কাতারে যুক্ত হয়েছিলেন। পাকিস্তানি অপশাসকরা যে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্র ক্ষমতা কব্জায় রাখতে চাচ্ছিলো তার বিপরীতে ভাষা পরিচয়ের ভিত্তিতে ঐক্য সৃষ্টি করে পাল্টা সংগ্রাম দাঁড় করিয়েছিলেন এই মধ্যবিত্তরাই।

মঙ্গলবার এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠানে ‘ভাষা আন্দোলনের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আতিউর রহমান বলেন, পাকিস্তানি এলিট শ্রেণি ধর্মের মোড়কে লুকিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে শোষণ করে যাচ্ছিলো। পাকিস্তানিরা বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে ন্যায্য স্বীকৃতি দিতে অরাজি হওয়ায় তা বাঙালি রাজনীতিক ও তরুণ কর্মীদের হতাশার আগুনে ঘি ঢেলে দেয়।

আরো পড়ুন: দুই দফা মীমাংসার পর বাড়িতে গিয়ে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

তিনি আরো বলেন, হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডের কৃষকসহ বঞ্চিত জনগণের বহু সংখ্যক আন্দোলন ও বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন বাংলাদেশের আকাংক্ষা ক্রমশ দানা বেঁধেছে। তবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের দৃশ্যমান বীজ প্রথম বপন করা হয়েছিলো ভাষা আন্দোলনের সময়েই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান সামনে থেকে এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাকে সমর্থন যুগিয়েছেন একে ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানী, সোহরাওয়ার্দি, আতাউর রহমান খানের মতো প্রবীণ নেতারা এবং তার সমকক্ষ অন্যান্য রাজনৈতিক সহকর্মীরা। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এই তরুণ নেতারাই পরবর্তী কালের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়েছেন এবং এগুলোর ফল স্বরূপ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ নামের স্বাধীন রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে।

এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক মাহফুজা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেশ কয়েক জন ইতিহাসবিদ, অর্থনীতিবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ অন্যান্য গবেষকরা। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ