প্রতিদিনই হোক ভাষা দিবস

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫২

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার মাস ফেব্রুয়ারি। ভাষা সংগ্রামীদের রক্তে রঞ্জিত ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটি বাঙালির জীবনে অবিস্মরণীয়। এই দিনটিতে জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করে থাকে। দিনব্যাপী শহীদ মিনারগুলো বাহারী ফুলে হয় সজ্জিত। একইসঙ্গে সাদা-কালো পোশাকে সজ্জিত হই আমরাও। তারপর সেলফি তুলে ফেসবুকে দেই জ্বালাময়ী স্ট্যাটাস। এসব দিয়েই ভাষার মর্যাদা রক্ষা করছি আমরা। কিন্তু ফুল দিয়ে আর বাহারী রংয়ের পোশাক পরিধান করেই কী ভাষার মর্যাদা রক্ষা হয়। এ জন্যই কী ভাষা শহীদরা রক্ত দিয়েছিলেন। কখনই না। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মায়ের ভাষার যথার্থ প্রয়োগের জন্যই রক্ত দিয়েছিলেন বীর শহীদরা। ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে নেমেছিলের রাজপথে। জীবন দিয়েছিলেন মায়ের ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করতে।

কিন্তু আমরা মায়ের ভাষাকে রক্ষা করতে দিনের পরিক্রমায় ব্যর্থ হচ্ছি। কয়েকদিন আগে ঢাকায় গিয়েছিলাম। ঘুরতে গেলাম শহীদ মিনারে। গিয়ে আমি হতবাক। শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারে জুতা পায়ে কিছু মানুষের অবাধ বিচরণ। শুধু তাই নয়, দেখা মিললো প্রেমিক যুগলের রোমান্টিকতার দৃশ্য। পরে সঙ্গে থাকা বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম, এটা কী প্রতিদিনকার চরিত্র?  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে বন্ধু উত্তরে হ্যাঁ বলল। এই হচ্ছে ভাষা শহীদদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ। সারাবছর বীর শহীদদের স্মরণার্থে নির্মিত শহীদ মিনারগুলো এভাবেই লাঞ্ছিত করি আমরা। শুধুমাত্র একটি মাসেই শহীদদের ও শহীদ মিনারগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়ে আমাদের। এবার আসা যাক মায়ের ও আমাদের প্রাণের ভাষা বাংলার দিকে। দিনের পরিক্রমায় বাংলাকে আমরা ‘ বাংলিশ‘ ভাষায় রূপান্তরিত করছি। দর্শকের মনকে আকৃষ্ট করার জন্য হরহামেশাই মায়ের ভাষা বাংলার সঙ্গে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শুদ্ধভাবে বাংলা ভাষায় কথা বলতে না পারলে সমস্যা নেই, কিন্তু ইংরেজিটা জানতেই হবে। কারণ ইংরেজি না জানলে ভালো চাকরি পাওয়া সম্ভব নয়। জ্ঞানের গভীরতা যা-ই হোক না কেন, ইংরেজি ভালোভাবে বলতে পারার ক্ষমতা অনায়াসেই আজকাল কাটিয়ে দিতে পারে অনেক অক্ষমতা। কেউবা আবার আধো বাংলা আর আধো ইংরেজিতে রপ্ত করে নিয়েছেন বিকৃত ও বিরক্তিকর এক ধরনের ভাষা। বাংলা ভালো জানি না বলতে পারাটাও বোধ হয় এক ধরনের যোগ্যতা হয়ে উঠেছে আজকাল। এখন অভিভাবকেরা সন্তানদের ইংরেজি মাধ্যমে ভর্তি করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। এসব থেকে অচিরেই আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। শুদ্ধভাবে বাংলাভাষার চর্চা করতে হবে। একইসঙ্গে সর্বস্তরে এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের প্রতিজ্ঞা হতে হবে, প্রতিদিনই হোক ভাষা দিবস। এই প্রতিজ্ঞা করতে পারলেই মায়ের ভাষা ও আমাদের প্রাণের ভাষা  বাংলার মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

n লেখক:শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া