বগুড়ার শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়াম। প্রায় ১৫ বছর ধরে এই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রাতে খেলার জন্য ফ্লাডলাইটগুলো জ্বলে না। এই সময়ের মধ্যে ডে-নাইট কোনো খেলাও হয়নি। অথচ প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা বিদ্যুৎ খাতে বিল গুনতে হচ্ছে। গত ১৫ বছরে অন্তত ৩ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়েছে। এই বিল পরিশোধ করতে হয়েছে স্টেডিয়াম কতৃর্পক্ষ বা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে।
শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ জানান, বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বিশেষ লাইন নেওয়ার কারণে এখানে প্রতি মাসে সর্বনিম্ন বিল পরিশোধ করতে হয় অন্তত ৬০ হাজার টাকা। গত কয়েক বছরে স্টেডিয়ামে গড়ে বিদ্যুৎ বিল আসছে ১ লাখ ১০ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। গড় বিলের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে গত ১৫ বছরে শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামকে ৩ কোটি টাকার ওপরে বিল দিতে হয়েছে।
স্টেডিয়াম সূত্রে জানা যায়, ২০০৩-০৪ অর্থ বছরে ২১ কোটি টাকায় নির্মিত বগুড়া শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামকে একটি আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে (ফ্লাডলাইটসহ) উন্নীত করা হয়। এই মাঠে আগে থেকেই ভালো মানের পাঁচটি উইকেট (পিচ) রয়েছে। ২০০৬ সালের ৩০ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বগুড়ার শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে ঘোষণা করে। একই বছরে স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক টেস্ট ভেন্যুর স্বীকৃতিও পায়।
কিন্তু অজানা কারণে ২০০৬ সালের পর থেকে এ মাঠে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে কোনো খেলা হয়নি। তবে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় লিগ, স্থানীয় প্রিমিয়ার ডিভিশন, প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ ও করপোরেট লীগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব ম্যাচের সবগুলোই দিনে অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক খেলা বন্ধের পরে ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক বার ফ্লাডলাইটগুলো জ্বালানো হয়েছিল। তবে এরপর সেগুলো আর জ্বলেনি। এর মধ্যে কোনো লাইট নষ্ট হয়েছে কি না তাও বলতে পারেনি স্টেডিয়ামের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। স্টেডিয়ামের প্রশাসনিকসহ সব ভবনে মোট এয়ারকন্ডিশন মেশিন (এসি) রয়েছে ৩২টি। কিন্তু এখন এর মধ্যে সর্বোচ্চ দুইটি ব্যবহার হয়। তাও গ্রীষ্মকালে। সামগ্রিকভাবে পুরো স্টেডিয়ামে চারটি মিটার ব্যবহার করা হয়। স্টেডিয়ামে কোনো আবাসিক কর্মকর্তা বা কর্মচারী নেই। অথচ প্রতি মাসে বিল আসছে লাখ টাকার ওপরে।
স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার জামিলুর রহমান জামিলও বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইট সংযোগ থাকার জন্য বিলের পরিমাণ বেশি হয়। আর বিদ্যুৎ বিভাগ এখন প্রতি মাসে গড় বিল করছে। তবে অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা ইনডোর বক্স স্হাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। এটি নিয়ে বিসিবি বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কথা বলছে। এতে অতিরিক্ত বিল বন্ধ হবে বলে আশা করছেন ভেন্যু ম্যানেজার।
জেলা ক্রীড়া সংস্হার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়াম খুব সুন্দর একটা আন্তর্জাতিক ভেন্যু। বিশ্বের অনেক নামিদামি খেলোয়াড় এখানে খেলেছেন। আরো অনেক স্টেডিয়াম এখন হয়েছে। কিন্তু এই স্টেডিয়ামের বিকল্প নেই। সুতরাং এখানে লাখ লাখ কেন কোটি টাকা খরচ করে হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার ব্যবস্থা করতে হবে।
জেলা ক্রীড়া সংস্হার সভাপতি ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক বলেন, আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে চালু করার জন্য কয়েক দফায় চিঠি চালাচালি হয়েছে। স্টেডিয়াম সংস্কারের কথাও বলা হয়েছে। তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। প্রতি মাসে এই স্টেডিয়ামে লাখ টাকার ওপরে বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হয়। এ বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি একটি সমাধানের রাস্তা তৈরি হবে।
