কুমিল্লায় জোড়া খুন: কিলিং স্কোয়াডের আরও দুইজন গ্রেফতার

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬:২৬

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের (কুসিক) প্যানেল মেয়র, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহা খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রের যোগানদাতাসহ কিলিং স্কোয়াডের আরও দুইজনকে সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে তাদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি সত্যজিৎ বড়ুয়া সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হল, কুমিল্লা নগরীর শুভপুর এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে মো. নাজিম ওরফে নাদিম (৩০) এবং জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. রিশাত ওরফে নিশাত। তারা এজাহার বহির্ভূত। 
 
ওসি সত্যজিৎ বড়ুয়া জানান, কাউন্সিলর সোহেলসহ জোড়া খুনের ঘটনায় ওই এলাকার সিসিটিভি থেকে নেওয়া ভিডিও বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই করে কিলিং স্কোয়াডের সদস্যদের শনাক্ত করা গেছে। এদের মধ্যে মো. নাজিমকে নগরীর শুভপুর এলাকা থেকে এবং তদন্তে প্রাপ্ত কিলিং স্কোয়াডের সদস্য ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের অন্যতম যোগানদাতা মো. রিশাতকে চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

পুলিশের একটি  সূত্র জানায়, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে রিশাতের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে এনে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হয়তো অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। এদিকে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আসামিরা আদালতে অবস্থান করছিল।  

উল্লেখ্য, ২২ নভেম্বর বিকালে নগরীর পাথুরিয়াপাড়া এলাকায় কাউন্সিলরের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অবস্থানকালে কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহাকে গুলি করে হত্যা করে মুখোশ পরিহিত সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমন বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাব এ পর্যন্ত এজাহারনামীয় ৭ জনসহ সিসিটিভি ফুটেজ এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কিলিং স্কোয়াডে অংশ নেয়া আরও ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রধান আসামি শাহ আলমসহ ৩ জন নিহত হন। এ মামলার এজাহারনামীয় ১১ নম্বর আসামি রনি পলাতক রয়েছে।  

ইত্তেফাক/ ইআ