বাংলাদেশে করহার সবচেয়ে বেশি

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:০১

এশিয়ার দেশগুলো এমনকি বিশ্বব্যাপী গড় করহারের চেয়েও বাংলাদেশের করহার বেশি বলে দাবি করেছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই)। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য আগামী তিন বছরে ধাপে ধাপে করহার ১০ শতাংশ কমানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এছাড়া ভ্যাট-ট্যাক্স ব্যবস্থা অটোমেশনের আওতায় আনা, আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, করের আওতা বাড়ানোসহ বেশকিছু দাবিও রয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই’র সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআই’র নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি ওসামা তাসীর এসব দাবি তুলে ধরেন।

এ সময় ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে  এ বিষয়ে ডিসিসিআই’র পরামর্শ তুলে ধরা হয়। বিনিয়োগ, অবকাঠামো খাত, টেকসই নগরায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, ভ্যাট-ট্যাক্সসহ রাজস্ব কাঠামো, ব্যাংকিং খাত নিয়ে তাদের ভাবনা তুলে ধরা হয়। বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজীকরণের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পরামর্শ ও দাবি জানিয়ে আসছেন। গতকালও ডিসিসিআই’র সভাপতি বলেন, ব্যবসা করার সূচকে যেসব দেশ উন্নতি করেছে, বাংলাদেশ তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে কৌশল নির্ধারণ করতে পারে। বিডা’র (বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) বহুল প্রতীক্ষিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস বা এক জায়গায় সব সেবা পাওয়ার কার্যক্রমটি দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি ব্যবসায়ীরা পর্যবেক্ষণ করছে বলেও এ সময় জানানো হয়।

বহুল আলোচিত ব্যাংকিং খাতের ইস্যুটিও আলোচনায় আনেন ডিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর মন্দ ঋণ এখন ৯৯ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা বা ব্যাংকের সমন্বিত ঋণের প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ। এটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহত্ মন্দ ঋণ হিসেবে উল্লেখ করে কেবল এ কারণেই ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১ শতাংশ বেড়েছে বলে জানান তিনি। সুদের হার এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনতে ব্যাংকগুলোর অঙ্গীকার বাস্তবায়নসহ এ বিষয়ে ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়। ঋণ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে মূলধন কমিয়ে আনা, ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলার স্বার্থে স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ঋণ তদারকির লক্ষ্যে শক্তিশালী তদারক সংস্থা গঠন করা, মন্দ ঋণ রোধে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নিয়মের আওতায় আনা এবং সর্বোপরি সরকারি ব্যাংকগুলোর সুশাসন কাঠামো সংশোধন করার দাবিও তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অবকাঠামো খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বন্ড মার্কেট চালুর পরামর্শ দিয়েছে ডিসিসিআই। বিষয়টি আরো পরিষ্কার করার লক্ষ্যে আগামী এপ্রিলে একটি সম্মেলন করার মাধ্যমে বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে সুপারিশ ও সহায়ক নীতিমালা প্রস্তাব করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি ইমরান আহমেদ, পরিচালক আশরাফ আহমেদ, আলহাজ্ব দ্বীন মোহাম্মদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, হোসেন এ সিকদার, রাশেদুল করিম মুন্না, কে এম এন মঞ্জুরুল হক প্রমুখ।

ডিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের জিডিপি বর্তমানে ২৭৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি ও সামষ্টিক অর্থনীতিক কাঠামো স্থিতিশীলতার পরিচয় বহন করে। বিনিয়োগ উন্নয়নের বিষয়ে ওসামা তাসীর বলেন, ব্যবসাবান্ধব নীতি প্রণয়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় কমিটি গঠনে সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিগণ একই প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সিদ্ধান্ত প্রণয়নে সক্ষম হবেন। এছাড়া ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়া  বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে বলেও জানান তিনি। গার্মেন্টস খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকির লক্ষ্যে সরকার গঠিত সংস্কার সমন্বয় সেল বা আরসিসি শিল্প সুরক্ষা ইউনিট হিসেবে ভুমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব প্রসঙ্গে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের চেম্বারগুলোর মধ্যে ঢাকা চেম্বারই প্রথম ৪র্থ শিল্প বিপ্লব সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছে।