স্পোর্টস রিপোর্টার
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পরাজয়ের বৃত্ত ভাঙার আশায় দেশ ছেড়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ওয়ানডে সিরিজে সেই লক্ষ্য পূরণের ধারে কাছেও যেতে পারেনি বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ শেষে টাইগারদের সঙ্গী হয়েছে হোয়াইটওয়াশের গ্লানি। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে ওয়ানডে লড়াইয়ের স্কোরলাইনটা এখন ১৪-০। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হয়েছিল নিউজিল্যান্ড সফরকে। সেদিকে থেকেও আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু পাওয়া যায়নি।
তিন ম্যাচেই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা ডুবিয়েছে বাংলাদেশকে। শুরুতেই ম্যাচের লাগাম তুলে দিয়েছে প্রতিপক্ষের হাতে। বিষম চাপের পর মিডল অর্ডারে প্রতিরোধ গড়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন, সাব্বির রহমান, সাইফউদ্দিনরা। কিন্তু সেটি শুধুই হারের ব্যবধান কমানোর সান্ব্তনা হিসেবেই কাজ করেছে। ডানেডিনে গতকাল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ।
অনেক না পাওয়ার সিরিজে প্রাপ্তি মিডল অর্ডারে মিঠুনের নির্ভরতা ও সাব্বিরের ফর্মে ফেরা। গতকাল শেষ ম্যাচে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন সাব্বির। ২ রানে তিন উইকেট হারানোর পর তার সেঞ্চুরিতেই যিকঞ্চিত লড়াই করলো বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের ৩৩০ রানের জবাবে ২৪২ রানে থেমেছে সফরকারীদের ইনিংস।
সিরিজ হেরে যাওয়ায় ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে অবশ্য পরিবর্তন হয়নি বাংলাদেশের। সপ্তম স্থানেই থাকছে টাইগাররা। তবে তিন রেটিং পয়েন্ট হারিয়েছে বাংলাদেশ।
টপঅর্ডারে ব্যর্থতার মিছিল, ধারহীন বোলিংয়ের স্মৃতি নিয়ে সিরিজ শেষ করেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। বাজে পারফরম্যান্সের পরও সামনে বিশ্বকাপ বলেই কিনা মাশরাফি বলছেন, ইতিবাচক থাকতে হবে সবাইকে। অধিনায়কের চোখেও ব্যাটিংই ব্যর্থতার মূল কারণ।
গতকাল ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওয়ানডে অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে। এখনো দুই মাস আছে পরের টুর্নামেন্টের। কারণ আয়ারল্যান্ডে অনেকটা একই রকম উইকেট হবে। হয়তো বা আয়ারল্যান্ডে গত বছর যেটা খেলে এসেছি, তখন উইকেট অনেক সবুজ ছিল।’
বৈরী কন্ডিশনে রান করার উপায় খুঁজতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন মাশরাফি। তিনি বলেছেন, ‘অনেক সময় কন্ডিশন অনুকূলে থাকে না। আমাদের অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে আমরা কিভাবে রান করব, বেশি উইকেট দিব না। কারণ ১০ ওভার পর ব্যাটিং করা অনেক সহজ হয়ে যায়। এটা আমাদের অবশ্যই দেখতে হবে।’
ব্যাটিংয়ে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হয়েছে প্রতিটি ম্যাচেই। শুরুতে দ্রুত উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। তামিম, লিটন, সৌম্যরা দলকে বিপদে ফেলেছেন সব ম্যাচে। মাশরাফি বলেছেন, ‘প্রথম দুটি ম্যাচ হয়নি। তখন আমি না শুধু পুরো দল ইতিবাচক ছিল। আমরা মনে হয় ভিন্ন কিছু করতে গিয়েছি। এ উইকেটে সুইং বা বাউন্স থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মৌলিক ক্রিকেটে থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যেটা আমরা করতে পারিনি। দুটি ম্যাচে যা হয়েছে আজকেও (গতকাল) তাই হয়েছে।’
বোলিংয়ে শুরুটা খারাপ ছিল না। কিন্তু শেষ দিকে নিশাম ও গ্র্যান্ডহোমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে তিনশ পার হয় নিউজিল্যান্ডের স্কোর। মাশরাফি বলেছেন, ‘বোলিংয়ে ৩৫তম ওভার পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু এরপর প্রয়োজনের মুহূর্তে আমরা উইকেট নিতে পারিনি। শেষদিকে ওরাও ভালো ব্যাট করেছে। বিশেষ করে নিশামের ব্যাটিংয়ের কারণে পিছিয়ে গেছি আমরা।’
হতাশার সাগরেও সাব্বিরের সেঞ্চুরিকে ইতিবাচক বলছেন ওয়ানডে অধিনায়ক। মাশরাফি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বারবারই বলতে চাইলেন, ম্যাচ জিততে টপঅর্ডারে রান আসতেই হবে। তামিম-লিটনরা কি অধিনায়কের কথা শুনছেন?
