মিয়ানমারে মেয়েদের বাঁচা মরার লড়াই

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:০৬

স্পোর্টস রিপোর্টার

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মেয়েদের ফুটবলের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় বাছাইয়ের লড়াইয়ে বাংলাদেশকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কঠিনই নয় একই সঙ্গে বলা যায় এসব প্রতিপক্ষের সঙ্গে না পেরে উঠার সম্ভাবনা খুব বেশি। বাংলাদেশের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন মুখে না বললেও তিনি আভাস দিচ্ছেন দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হবে। কারণ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ খুব শক্তিশালী। চীন, মিয়ানমার এবং ফিলিপাইন। বিশেষ করে চীন এবং মিয়ানমার সস্পর্কে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ভালো না।

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের গ্রুপ পর্ব মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি হতে ৩ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের ‘বি’ গ্রুপ পর্বের খেলা। ৩-৭ মার্চ ‘এ’ গ্রুপে লাওস, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম এবং ইরান লড়াই করবে লাওসের মাঠে। দুই গ্রুপ হতে ৪ দল মূল পর্বে উঠবে। এই চার দেশের সঙ্গে মূল পর্বে যোগ হবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া, রানার্সআপ দক্ষিণ কোরিয়া, তৃতীয় জাপান এবং স্বাগতিক থাইল্যান্ড। আট দেশ নিয়ে চূড়ান্ত পর্বের খেলা হবে।

বাংলাদেশ মূল পর্বের টিকিট পাবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। পরিষ্কার করে বলতে পারেননি মহিলা ফুটবল নিয়ে কর্মরত বাফুফের টেকনিক্যাল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক ডাইরেক্টর অস্ট্রেলিয়ান পল স্মলী। ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেছেন,‘খুব ক্লোজ ফাইট হবে।’ কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন বাস্তবতা মেনে নিয়েই এগিয়ে যেতে চান। হেরে যাওয়ার ভয়ে যুদ্ধে না যাওয়ার কোনো কারণ নেই। কাপুরুষের মতো বসে থাকলে রক্তাক্ত হতেই হবে। তার চেয়ে যুদ্ধ করে মরাই ভালো। এমন মনোভাব নিয়ে ছোটন বললেন,‘মেয়েরা যতটুকু শিখেছে তা মাঠে প্রয়োগ করতে পারলেই সার্থকতা।’ কঠিন যুদ্ধে যাওয়ার আগে বাংলার মেয়েরা অনুশীলন ম্যাচের ঘাটতি নিয়ে মিয়ানমার যাচ্ছে। আর প্রস্তুতি ম্যাচ প্রসঙ্গে কোচ ছোটনও বলেন,‘প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারলে ভালো হতো। তবে আমরা নিজেদের দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে একাধিক ম্যাচ খেলেছি।’

বাংলাদেশের গ্রুপে সবচেয়ে শক্তিশালী হচ্ছে চীন। তবে চীনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে আগে। জয় ড্র এবং হার রয়েছে তিন ম্যাচে। কিন্তু যাদের বিপক্ষে খেলেছে তাদের কয়েকজন ফুটবলার মিয়ানমার আসবেন, সেটি জানেন ছোটন। সেই অভিজ্ঞতায় চীনের পুরো শক্তি সম্পর্কে বলা যাবে না।

টোকিও অলিম্পিক বাছাইয়ে মিয়ানমারের মাঠে মিয়ানমারের কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফিলিপাইন সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই বাংলার মেয়েদের।

কোচ বলেন,‘আগের আসরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েরা যেমনটা খেলেছিল সেটা সবার জানা। এখন এই মেয়েরা আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নতি করেছে। ধরেই নেওয়া যায় ভালো করবে।’ আগামীকাল রাতে মিয়ানমার রওনা হবে বাংলাদেশ।    

অনূর্ধ্ব-১৬ চূড়ান্ত দলের খেলোয়াড়রা হলেন

মাহমুদা খাতুন, রূপনা চাকমা, ইয়াসমিন আক্তার, আঁখী খাতুন, নাজমা, আনাই মগিনি, নীলফুর ইয়াসমিন নীলা, রিতু পর্না চাকমা, মারিয়া মান্ডা (অধিনায়ক), মনিকা চাকমা, মুন্নী আক্তার, লাবনী আক্তার, সোহাগী কিসকু, ইলামনি, সুলতানা, আনুচিং মগিনি, নওসিন জাহান, রেহানা আক্তার, সাহেদা আক্তার রিপা, বড় শামসুন নাহার, তহুরা খাতুন, ছোট শামসুন নাহার এবং রোজিনা আক্তার।