আনারস তুমি কার

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯:৪০

ঠাকুরগাঁওয়ে আসন্ন ২৬ তারিখের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পছন্দের প্রার্থীর সমর্থনে মাঠে নেমেছেন ভোটাররা। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় প্রার্থীর রাজনৈতিক অবস্থান প্রভাব ফেলেছে ভোটের মাঠে। তবে একজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র।

জানা গেছে, জেলার প্রধান চার রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামাত একযোগে কাজ করছে আনারস মার্কার এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্যে। আনারসের সেই প্রার্থী হলেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের এস এম কুদ্দুস। বিষয়টি এখন ঠাকুরগাঁওয়ের আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, চেয়ারম্যান প্রার্থী কুদ্দুস ঠাকুরগাঁও জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি এস এম মঈনের ভাই। এছাড়াও কুদ্দুসের ছেলে আলী নোমান জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। একটি প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হওয়ায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশই কুদ্দুসের নির্বাচনী প্রচারণার কাজ করছে।

আওয়ামী লীগের কর্মীরা আনারসের হয়ে কাজ করার সত্যতা নিশ্চিত করে মোহাম্মদপুর ইউপিতে নৌকার প্রার্থী সোহাগ জানান, কুদ্দুসের ভাই ও ছেলের নির্দেশেই অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন করছে। দলের নির্দেশ অমান্য করেছে তারা। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ মহলে কথা বলেছি আমি।

আনারস মার্কার সেই প্রার্থী কুদ্দুস বলেন, আমি কোনো নির্দিষ্ট দলের সমর্থন চাইনি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জনগণের মনোনীত প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আমাকে ভালোবেসেই দলমত নির্বিশেষে সবাই আমার পক্ষে কাজ করছে। আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান বলেই আওয়ামী লীগের সমর্থকরা আমার জন্যে কাজ করছে এটা ভুল কথা। জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও জামাতের সমর্থকরাও আমার সঙ্গে রয়েছে। সকলেই এলাকার উন্নয়নে একজন যোগ্য চেয়ারম্যান চায়। 

এদিকে একপ্রকার আনুষ্ঠানিকভাবেই আনারসের প্রার্থী কুদ্দুসকে সমর্থন দিয়েছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপি। মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন বিএনপিকে জেলা কার্যালয়ে ডেকে এনে কুদ্দুসের পক্ষে নির্বাচনের কাজ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এমনকি নির্দেশ অমান্য করলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আব্দুল হামিদ বলেন, মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। এছাড়াও বর্তমান চেয়ারম্যান নৌকার প্রার্থী সোহাগ আমাদের বিএনপির অনেক ক্ষতি করেছে। তাই নৌকা প্রার্থীকে হারানোর জন্যেই আমরা কুদ্দুসকে সমর্থন দিয়েছি।

ঠাকুরগাঁও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল রাজি স্বপন জানান, যেসকল ইউনিয়নে আমাদের নিজস্ব কোনো প্রার্থী নেই সেখানে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তাই চাইলে ইচ্ছে মতোই যে কারো নির্বাচন করতে পারে জাতীয় পার্টির কর্মীরা। 

প্রবীণ রাজনীতিবিদ মনসুর আলী বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেব দেখছেন। তিনি মনে করেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যক্তিগত ইমেজকে গুরুত্ব দেয়া সেই এলাকার জন্যে ভালো। একজন সৎ ও যোগ্য প্রতিনিধি ইউনিয়নের ভাগ্য পরিবর্তনের উছিলা হতে পারে। নিরক্ষরতা ও বাল্যবিবাহের মতো সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করতে পারবেন তিনি।

ইত্তেফাক/এসএ