সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা অপরাধীদের তথ্য যাচাই করতে এনটিএমসি’র (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার) সহযোগিতা নিতে পারবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে পুরাতন তেজগাঁও বিমানবন্দর সংলগ্ন এনটিএমসি কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ স্টেশন। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী ও অপরাধীদের এখান থেকেই মনিটরিং করা হবে। গতকাল এনটিএমসি কার্যালয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধানদের সাথে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য জানিয়েছেন। বৈঠকে জাতীয় নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে বিভিন্ন ব্যক্তির ফাঁস হওয়ার টেলি কথোপকথোন এনটিএমসি সরবরাহ করেনি বলে জানিয়েছেন এনটিএমসি’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান। তিনি বলেন, ওইসব কল রেকর্ড বিক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি কথা বলার সময় রেকর্ড করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে। এখন কেউ যদি মনে করে, তার সম্মানহানি হয়েছে তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
এই সংস্থা এখন থেকে সকল নাগরিকের মোবাইল কথোপকথন রেকর্ড করবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান বলেন, যাদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে তথ্য থাকবে, যারা অপরাধী এবং যারা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে শুধু এমন ব্যক্তিদেরকেই সার্ভিলেন্সের আওতায় আনা হবে। এর বাইরে কাউকে সার্ভিলেন্সের আওতায় আনা হবে না। এরপরেও এখান থেকে তথ্য কোথাও ‘মিস ইউজ’ করা হবে না। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সবকিছু করা হবে।
এনটিএমসির পরিচালক বলেন, সকল প্রকার গুজব বন্ধে এনটিএমসির সাথে বিটিআরসিও কাজ করছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যে সকল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে, তা সেন্ট্রালাইজ পদ্ধতিতে বন্ধ করা হয়েছে। কোনো ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দিলে ওসি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তো বন্ধ হবে না। তাই সকল অভিযোগ একখানে করে কেন্দ্রীয়ভাবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে তা বন্ধ করে থাকি। এনটিএমসিতে সকল বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের রাখা হয়েছে। তারা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের যার যা তথ্য লাগবে তা এখান থেকে দিয়ে সহযোগিতা করবেন।
পরিচালক বলেন, এরই মধ্যে অনুমতিবিহীন প্রধানমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি ৭৫২টি, প্রধানমন্ত্রীর পরিবার বর্গের নামে মানহানিকর পোস্ট ৭১টি, মিথ্যা খবর ও জঙ্গি তত্পরতার অভিযোগ ৫৪টি, সেনাবাহিনীর নামে
আইডি ৫৭৮টি, পেজ ২৭০টি, গ্রুপ ৮টি, নৌবাহিনীর নামে করা ২১টি এবং নির্বাচন কমিশনের নামে করা ১১টি আইডি বন্ধ করা হয়েছে।
এনটিএমসি থেকে বলা হয়, অপরাধী শনাক্তকরণ ও যোগাযোগ মাধ্যমসমূহ মনিটরিংয়ের জন্য এনটিএমসিতে বিদ্যমান কেন্দ্রীয় মনিটরিং ও সরকারের কার্যক্রমকে সুসংহত করতে ‘ইনটিগ্রেটেড ল’ফুল ইনটারসেপশন সিস্টেম (আইএলআইএস) বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের একটি টেলিকমিউনিকেশন ডাটাহাব তৈরির কাজও চলমান রয়েছে। যেখান থেকে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে চাহিদামতো তথ্য সরবরাহ করা হবে।
এনটিএমসি কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বিজিবি ডিজি মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম, কোস্টগার্ড ডিজি রিয়ার এডমিরাল আশরাফুল হক, ডিজিএফআইয়ের ডিজি মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন, বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সোহায়েল হোসেন খান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজি জামাল উদ্দিন আহমেদ, এনএসআইয়ের ডিজি, র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, এসবি’র প্রধান মীর শহীদুল ইসলাম, সিআইডি প্রধান শেখ হিমায়েত উদ্দিন , এন্টি টেররিজম ইউনিটের প্রধান শফিকুল ইসলাম, বিটিআরসির চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, এনআইডির প্রকল্প পরিচালক ও কারা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এনটিএমসিকে আরো বেশি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করা হবে। বৈঠকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কী কী সমস্যা আছে তা চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে বসে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা হবে।
