এক হাস্যেজ্জ্বল, প্রাণবন্ত ও সাবলীল মানুষ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) নিরাপত্তা প্রহরী শাহ আলম খোকন। টিএসসিতে তিনি পরিচিত খোকন মামা নামে। ছাত্রদের দেখলেই মুহুর্তেই গল্প জুড়ে দিতেন। পরিচিত ছাত্রদের দেখলে বলে উঠতেন, 'আন্নে জানেন না, আন্নেগোরে আই বহুত ভালোবাসি।' এমন ভালোবাসা মাখানো শব্দে আর মায়ায় কথা বলতেন খোকন মামা।
সেই খোকন মামা না ফেরার দেশে চলে গেলেন৷ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ গ্রামের বাড়িতে পরপারে পাড়ি জমান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্বে থেকে ছাত্রদের ভালোবাসা কুড়িয়ে নিয়েছেন তিনি। ভালোবাসাও দিয়েছেন ছাত্রদের। এ যেন ভালোবাসা দিয়ে ভালোবাসা কুঁড়ানো। সাধ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব খাতিরের চেষ্টা করতেন৷ কর্তব্যে অবহেলা ছিলো না কখনো।
ডাকসুর সাবেক সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আসিফ তালুকদার বলেন, টিএসসিতে গেলেই যেখান থেকে দেখতেন এসে জড়িয়ে ধরতেন। বলতেন বস কেমন আছেন। আমি বারবার বলতাম খোকন মামা আমাকে বস বলেন কেন? উনি হাসতেন আর বলতেন এমনিতেই বলি মাইন্ড করেন? আমি যখন হাসতে হাসতে বলতাম না মামা মাইন্ড করিনা। তখন উনি বারবার বলতেন থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ। কয়েকদিন টিএসসি না গেলেই যেদিন দেখা হতো বলতেন বস আসেন না কেন? আপনি প্রতিদিন আসবেন। আপনাকে আমরা মিস করি।
টিএসসির শাহ আলম খোকনের সহকর্মী সামশুল হক বলেন, খোকন ভাই আমাদের সাথে সব সময় আনন্দে মেতে থাকতেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি আমাকে চা খাওয়াচ্ছিলেন জোর করে। আর বলছিলেন, ভালো করে খাও। কখন যে কার মৃত্যু সামনে চলে আসে বলাতো যায় না। রাতে ডিউটি শেষে সকালেই তিনি বাড়ি চলে যান। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে তার চলে যাওয়ার খবর শুনছি।
নিজের গ্রামেও জনপ্রিয় ছিলেন খোকন। শুক্রবার সকাল ১০টায় কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের নিজ এলাকায় মৃত খোকনের জানাযায় ছিলো মানুষের ঢল৷ এলাকার প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে ছিলো কান্নার রোল। চার মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন খোকন। বড় ছেলে শাহাদাত হোসাইন উপার্জনের একমাত্র ভরসা। ছেলে শাহাদাত হোসেন টিএসসি ক্যাফেটোরিয়ার সহকারী হিসারক্ষক। তিনি বলেন, বাবা সবার কাছে জনপ্রিয় ছিলেন। সবসময় মুখে হাসি লেগে থাকতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে আব্বুর সখ্যতা ছিলো অনেক বেশী। সবাই আব্বুকে ভালোবাসতো। আব্বু চলে গেলেও টিএসসি কখনো আব্বুকে ভুলবে না।
