শ্রুতিলেখক নিয়ে জটিলতা

বরিশালে এসএসসি দিতে পারেনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ৪ পরীক্ষার্থী

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩২

বরিশাল সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ জনই এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। শিক্ষার্থীরা হলো— সুজন হাওলাদার, তাজনূর আক্তার, দিপা দাস ও খাদিজা আক্তার। তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেয় এবং ফরমও ফিলাপ করে। কিন্তু শ্রুতিলেখক নিয়ে জটিলতায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষা না দেওয়ার পিছনে প্রধান শিক্ষক ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছে।

তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, শিক্ষার্থীরা অবৈধ শ্রুতিলেখক নিয়ে পরীক্ষা দিতে চাইলে বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাদের ধরে ফেলে। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের বৈধ শ্রুতিলেখক দিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করলেও তারা পরীক্ষায় অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মোসাম্মত্ সামসুন্নাহার ইত্তেফাককে বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় তাদের চেয়ে দুই ক্লাস নিচের শিক্ষার্থীকে শ্রুতিলেখক হিসেবে নিতে পারে। কিন্তু এই শিক্ষার্থীরা তাদের চেয়ে উঁচু ক্লাসের শ্রুতিলেখক নিলে বোর্ড তা বাতিল করে দেয়। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ ৬ শিক্ষার্থীর জন্য ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শ্রুতিলেখক হিসেবে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেয়। পরে ওই ৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেবে না বলে জানিয়ে দেয়।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস জানান, ওই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা কিছু অনিয়ম করে ধরা পড়েছে। পরে আর পরীক্ষা দেয়নি।

এদিকে জাতীয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সংস্থার বরিশাল শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, স্কুলটিতে নানারকম দুর্নীতি বিদ্যমান। দুই পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করলেও ৪ জন টাকা না দেওয়ায় তাদের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। তবে পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরাসহ স্কুল কর্তৃপক্ষের সকলেই টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।