জাবিতে ‘ফিস্ট উৎসবে’ বেড়েছে বরাদ্দ, কমেছে খাবারের মান!

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১৫:১৮

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আবাসিক হলের শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ‘উন্নত খাবার’ পরিবেশনের জন্য জনপ্রতি অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে আয়োজিত এ খাওয়ার আয়োজন ‘ফিস্ট উৎসব’ নামেও পরিচিত। তবে জনপ্রতি অর্থ বরাদ্দ বাড়লেও খাবারের মান কমেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি খোদ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিরুপ মন্তব্য করেছেন শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি আবাসিক হলের মোট ১৬ হাজার ৬৩৭ জন শিক্ষার্থী ও ৯৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য জনপ্রতি ৪২৫ টাকা হারে মোট ৭৪ লাখ ৮৭ হাজার ২২৫ টাকা বরাদ্দ দেয় প্রশাসন। অন্যদিকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য হল থেকে ৫০ টাকা করে বরাদ্দ দেয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কুপন ফি বাবদ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা নিয়েছেন হল কর্তৃপক্ষ। সে হিসেবে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০৫ টাকা। যেখানে আগের বছরগুলোতে বিজয় দিবসের ফিস্টে জনপ্রতি বরাদ্দ ছিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০০ টাকা, হল কর্তৃপক্ষের থেকে ৫০ টাকা ও কুপন ফি বাবদ ৩০ টাকা।

এদিকে বরাদ্দ বাড়ানোর কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার খাবারের মান উন্নত করার চেষ্টা থাকবে বলে ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে খাবারের মান বৃদ্ধিতে তাদের দৃশ্যমান কোন প্রচেষ্টা ছিল না বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। বরং বরাদ্দ বাড়ানোর পরেও খাবারের মান করোনা প্রকপের আগের বছরের তুলনায় কমেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জহির ফয়সাল বলেন, শিক্ষার্থীদের জনপ্রতি ৫০৫ টাকা বরাদ্দ থাকলেও যে খাবার পরিবেশন করা হয়েছে, তা কোনভাবেই ২৫০ টাকার বেশি নয়। এছাড়া অন্য বছরের তুলনায় খাবারের মানও খারাপ ছিল। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা অন্য কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে কিনা, সেটা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত ফিস্টে ব্যয়কৃত টাকার যথাযথ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা।

মার্কেটিং বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমরান শাহরিয়ার বলেন, দীর্ঘদিন পর পাওয়া ‘ফিস্ট উৎসবে’ অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষার জায়গা ছিল। তবে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ৫০৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে যে মানের খাবার সরবরাহ করা হয়েছে, তাতে কোনক্রমেই খাবারের মূল্য ২৫০ থেকে ২৮০ টাকার বেশি হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় পৌনে ১ কোটি টাকার বিশাল এই বাজেটে অর্থের কারচুপি ঘটেছে কিনা, সেটা খতিয়ে দেখা এখন সময়ের দাবি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, বিগত কয়েকবছর যাবত হলে দায়িত্ব পালন করছি। ফলে অনেকগুলো ফিস্ট পেয়েছি। তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার খাবারের মান আসলেই খারাপ হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহা. মুজিবুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, এ বছর জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় বরাদ্দ বাড়ানো হয়। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার খাবারের মান উন্নত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তারপরেও যেহেতু শিক্ষার্থীরা খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, সেহেতু পরবর্তীতে ফিস্ট আয়োজনের সময় হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তদারকি কমিটিতে রাখা হবে। তবে আমার হলের শিক্ষার্থীরা খাবারের মান ও পরিবেশন নিয়ে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এসটিএম