‘ঘুমে’ ছিলেন খালেদা জিয়া

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৯

নাইকো দুর্নীতি মামলায় গতকাল বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়নি। উনি ‘ঘুম’ থেকে না উঠায় তাকে হাজির করা হয়নি বলে আদালতকে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এরপর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ মামলার অভিযোগ গঠনের উপর পরবর্তী শুনানির জন্য ৩ মার্চ দিন ধার্য করেন।

দুটি দুর্নীতির মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে এক বছর ধরে বন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া। এই কারাগারের ভেতরে একটি ভবনে স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী এজলাস। সেই এজলাসে গতকাল বসেছিলো ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯। বেলা ১২টার দিকে এজলাসে আসেন বিচারক। কার্যক্রম শুরুর পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) আদালতে আনা হয়নি। মনে হচ্ছে  তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ।’ এ পর্যায়ে বিচারক বলেন, উনি কোথায়? কেন হাজির করা হয়নি? তখন কারা কর্তৃপক্ষ আদালতে বলেন, খালেদা জিয়া এখনো ঘুম থেকে উঠেননি। এজন্য তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, মনে হচ্ছে অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়া এখনো ঘুমাচ্ছেন। এজন্য উনার দ্রুত চিকিত্সার আদেশ দেওয়া দরকার। চিকিত্সার বিষয়ে একটি আবেদনও আদালতে দাখিল করেছিলাম।

জবাবে দুদক কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, উনি যদি অসুস্থ হন তাহলে চিকিত্সার ব্যাপারে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। জেল কোড অনুযায়ী আদেশ দিতে পারে আদালত। তখন এ মামলার আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ সেটা সকলেই অবহিত। কোনো সুস্থ মানুষ হুইল চেয়ারে করে আদালতে কিংবা বেলা ১২টা পর্যন্ত নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে থাকবেন না। উনি দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। যথাযথ চিকিত্সা প্রয়োজন।

দুদক কৌঁসুলি বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ বলছে উনি ঘুমিয়ে আছেন। এখানে অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত বলেন, আসামি খালেদা জিয়া অনুপস্থিত থাকায় অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানির জন্য ৩ মার্চ দিন ধার্য করা হলো। একইসঙ্গে চিকিত্সার বিষয়ে করা আবেদনের উপর পরে আদেশ দেওয়া হবে।

সেনা সমর্থিত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ সাবেক মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে নাইকো মামলা করে দুদক। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে ‘তুলে দেওয়ার’ মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন।