কুমিল্লায় ৫ কিলোমিটার এলাকার বাসা-বাড়ির কমপক্ষে সহস্রাধিক অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জেলার বুড়িচং উপজেলার নিমসার, কোরপাই গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সাইদের নেতৃত্বে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ও পুলিশের সমন্বয়ে ওই অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও ভিজিলেন্স টিমের প্রধান মো. রবিউল হক এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপক ও টিমের সদস্য মো. আবু জাফর।
তবে বাখরাবাদ কোম্পানির কর্মকর্তারা এসব সংযোগ অবৈধ দাবি করলেও ওই এলাকার ভুক্তভোগীরা তাদের সংযোগগুলো বৈধ বলে দাবি করেন। এ অভিযানের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযান চলাকালে ভুক্তভোগীরা সাংবাদিকদের জানান, তারা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ঠিকাদার ও স্থানীয় ইউপির একজন সাবেক মেম্বারের মাধ্যমে গত চার বছর আগে ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে গ্যাস সংযোগ নিয়েছেন। এসময় তারা গ্যাস সংযোগের ডিমান্ড নোট (চাহিদাপত্র) ও গ্রাহক হিসেবে তাদের নামে ইস্যুকৃত বিল বই দেখান এবং ব্যাংকে নিয়মিতভাবে বিল পরিশোধের রসিদ উপস্থাপন করেন।
গ্রাহক সংকেত নম্বর ২৬৬১৭৮৪ এর গ্রাহক দাবিদার মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি নিয়মিতভাবে গ্যাস বিল পরিশোধ করে আসছেন। কোম্পানির কম্পিউটারে গ্রাহক তালিকায়ও তার নাম রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। গত বছরের এপ্রিল মাসে বকেয়াসহ ৯৪ হাজার ৮শ টাকা বিল পরিশোধেরও রসিদ দেখান তিনি। কোরপাই গ্রামের মো. হুমায়ুন কবির বলেন, তিনি ২০১৫ সালের ১৪ জুন কোম্পানির চাহিদাপত্র (ক্রমিক নং-১৫৭৮) পেয়েছেন। ওই পত্রে কোম্পানির কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর রয়েছে। তিনি ব্যাংকের মাধ্যমে নিয়মিত বিল পরিশোধ করছেন। এসময় কোম্পানির গ্রাহক বিল বই ও অন্যান্য কাগজপত্র হাতে নিয়ে কাজী লিটন, আবদুল করিম, শাহ আলমসহ অর্ধ শতাধিক ভুক্তভোগী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দীর্ঘ ৪ বছর ধরে তারা গ্যাস সংযোগ নিয়ে যথারীতি বিল পরিশোধ করলেও এখন কোম্পানির কর্মকর্তারা সংযোগগুলো অবৈধ বলে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের নিকট দাবি জানান।
এসব বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক ও ভিজিলেন্স টিমের প্রধান মো. রবিউল হক বলেন, ‘আমাদের কিছু লোকজন আছে, তাদের পয়সা দিলে কম্পিউটারে নাম উঠিয়ে দেয়। যখন কোনো প্রেসার আসে তখন কম্পিউটার থেকে নামধাম কেটে দেয়। বিচ্ছিন্ন করা সংযোগগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ। কোম্পানির দপ্তরে তাদের কোনো বৈধতার কাগজপত্র নেই। ডিমান্ড নোট ও বিল বই বানানো। কিছু অসাধু জনপ্রতিনিধি, কোম্পানির কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা ঠিকাদার এসব অবৈধ কাজে জড়িত থাকতে পারে। তবে প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
