কুড়িগ্রামে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২১, ১৩:১০

উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে পৌষের প্রথম দিন থেকে শীতের তীব্রতা ও হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন জীবন-জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষ। 

কনকনে ঠান্ডায় শিশু ও বৃদ্ধরা কাবু হয়ে পড়েছেন। 

স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বলছে, শীতের তীব্রতা বেড়ে সোমবার (ডিসেম্বর ২০) থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করায় উপজেলাজুড়ে ছিন্নমূল মানুষের চরম ভোগান্তি বেড়ে যেতে পারে। তবে শীত মোকাবিলায় সরকারের সকল প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্র জানায়, পৌষের শুরু থেকেই ক্রমান্বয়ে তাপমাত্রা হ্রাস পেয়েছে। সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে এ উপজেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এ মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আগামী তিন থেকে চারদিন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।

এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ায় গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ছে। সামর্থ্যবানদের চাহিদা থাকায় বৈদ্যুতিক দোকানগুলোতে গিজার আর ইলেকট্রিক ক্যাটলির বিক্রিও বেড়েছে। তবে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রান্তিক কৃষক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

শীতের কাপড় কেনাকাটায় ব্যস্ত স্থানীয়রা। ছবি: ইত্তেফাক

উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের ভ্যানচালক হাক্কু মিয়া ও জহুরুল হক জানান, এমন শীত ও ঠান্ডা থাকলে ভ্যান চালানে খুবই কষ্টকর হয়ে যায়। তারপরও জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যেও বের হতে হয়। তারা এখনো গরম কাপড় অথবা কম্বল পায়নি বলে জানান এই দুই ভ্যানচালক।  

প্রান্তিক মানুষের এমন কষ্টের কথা ভেবে স্থানীয় প্রশাসন শীত নিবারণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের প্রকল্প বাস্তবায়ন বিভাগ। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়েও শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত জানান, শীত মোকাবিলায় এ উপজেলায় ২ হাজার ৮১৫ পিস কম্বল বরাদ্দ এবং শীতার্তদের পোশাক ও কম্বল ক্রয়ের জন্য ৯ লক্ষ ৯২ হাজার ৫০১ টাকা করে বরাদ্দ এসেছে। ইতোমধ্যে উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের ২ হাজার ৮১৫ পিস কম্বল বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। শীতার্তদের বরাদ্দের টাকায় শীতবস্ত্র ক্রয় করাও হয়েছে। সেগুলো শীতার্তদের মধ্যে বিতরণ কার্যক্রম চলছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমন দাস জানান, শীতে উপজেলার মানুষ যেন কষ্ট না পান, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে সেগুলো বণ্টন করা হয়েছে। আশা করছি শীতে মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।

ইত্তেফাক/এএএম