প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধী দলগুলো গত ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে একেবারেই ‘সিরিয়াস’ ছিল না। তারা প্রায় ৯০০ জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। একটি আসনে যদি তারা দুই থেকে তিনজনকে মনোনয়ন দেয় তাহলে কিভাবে জিতবে? তিনি বিরোধী দল বিএনপি ও এর মিত্রদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে তারা ক্ষমতায় এসে সমাজের সকল ক্ষেত্রে অস্থিরতার জন্ম দিয়েছিল, যে কারণে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়। মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবু ধাবিতে গালফ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন বিনসাল আবদুল কাদের ও সমিহাহ জামান।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উঠা অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে বিরোধীরা একেবারেই সিরিয়াস ছিল না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দুবাইর এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলে একটি বিরোধী দল তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। সেই প্রবাসী আবু ধাবিতে আমাদের দূতাবাসে গিয়েছিলেন মনোনয়নপত্র জমা দিতে। দূতাবাস তা গ্রহণ করতে পারে না। তাকে বাংলাদেশে রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। দূতাবাস এ বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছে। ওই ভদ্রলোক এতে মর্মাহত হন। তিনি বলেন, এজন্য তিনি অনেক টাকা খরচ করেছেন, লন্ডনেও দিয়েছেন। কারণ তাকে বলা হয়েছিল, দূতাবাসে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। এ ঘটনা বিরোধীদের অদক্ষতার পরিচয় দেয়।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে আমাদের অবস্থান এখনো একই। এ লক্ষ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি হলেও রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে কিংবা মূল সমস্যার সমাধানে দেশটি যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চাপ দিতে হবে। রাখাইনে একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরির কথা বলেছেন তিনি, যেটি মানবাধিকার কর্মীরা নজরদারি করবে।
সাক্ষাত্কারের অংশ নিয়ে গালফ নিউজ আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের উদ্দেশ্য বোধগম্য নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ধর্মীয় নিপীড়নের মুখে প্রতিবেশী দেশ থেকে পালিয়ে যেসব সংখ্যালঘু ভারতে আশ্রয় নিয়েছে তাদের নাগরিকত্ব দিতে বিলটি পাসের চেষ্টা চালিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। বিলটি ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় পাস হলেও উচ্চকক্ষে তা বাতিল হয়ে গেছে।
এই বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন এই বিল, আমি বুঝতে পারছি না। মুখে হাসি নিয়ে তিনি বলেন, এটা কি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে? তিনি বলেন, এই বিলটি নিয়ে ভারতীয়রাও খুশি নন। আমি মনে করি, তাদের এমন কিছু করা উচিত হবে না, যা উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশকে দায়ী করে এই বিল আনা হয়েছে বলে কখনো মনে করেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমি তেমনটা মনে করি না। বাংলাদেশে এমন কোনো ঘটনা (ধর্মীয় নির্যাতন) নেই। কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা সে বিষয়ে তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় জনসংখ্যা অনেক এবং দারিদ্র্যতাও তীব্র। আমি প্রতিবেশী দেশগুলোকে বলেছি যে, আমাদের একটি অভিন্ন শত্রু আছে। তা হলো দারিদ্র্য। এই দারিদ্র্য দূরীকরণে আমাদেরকে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করতে অথবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য কাউকে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। কারণ, এর ফলে নিজ দেশের শান্তিও বিনষ্ট হয়। শান্তি বজায় থাকলে দ্রুত উন্নতি করা সম্ভব।
