যৌন হয়রানিকারী শাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:১৮

রমণীরা আপনারা নাচেন, আমি দেখি। সঙ্গে থাকা একজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আজ আপনাদের নাচের প্রতিটি মুদ্রায় একটা করে টাকা ওড়াব আমি। নিজ বিভাগের ছাত্রীদের প্রতি এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করলে বাধা দেয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তালুকদার মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিনের এমন অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। এর আগে ক্যাম্পাসে একটি মৌন মিছিল করে তারা।

মানববন্ধনে প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদ বাধা প্রদান করে বলেন, এই রকম একটা ইস্যু নিয়ে তুমি চাইলেই মাঠে নেমে যেতে পারো না। কথায় কথায় শুধু লাফালে চলবে না। এই সময় তিনি মানবন্ধনকারীদের উদ্দেশ্য আঙুল উঁচিয়ে বলেন, এই ঘটনা আয়ত্বের বাইরে চলে গেলে তোমাদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। সেচ্ছাচারিতার একটা সীমা আছে। এত বড় ভাইটাল ইস্যু নিয়ে এভাবে রাস্তায় নেমে যাওয়া যায় না।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, অভিযুক্ত এ শিক্ষক শুধুমাত্র এরকম একটা ঘটনার সঙ্গে জড়িত এমন নন। তিনি বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ, যৌন হয়রানিসহ নানা অপকর্মে জড়িত। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানালেও সঠিক সমাধান পাওয়া যায়নি। তাই তারা বাধ্য হয়ে এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে লিখেন, উনি ছাত্রীদের প্রতি এরকম অশালীন আচরণ অনেক আগ থেকে করেন। আমাদের ব্যাচ যেবার লাস্ট কালচারাল নাইটে পারফর্ম করেছিল সেবারো অসভ্যর মত গানের ফ্লোরে বসে থাকতো। তার সামনে নাচের অনুশীলন করার সময় মেয়েরা অস্বস্তিতে ওয়াশরুম থেকে ভালোভাবে পিনআপ করে আসতো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধকল্পে অভিযোগ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরী বলেন, এগুলো যদি সত্য হয় তাহলে তিনি শিক্ষক হওয়ার কোন মর্যাদা রাখেন না।