সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা এক সমস্যা নিয়ে ছবিটি নির্মিত হয়েছে। আফগান যুদ্ধফেরত বাংলাদেশের নাগরিকদের সঙ্গে লিঙ্ক করে বর্তমান সময়ের জঙ্গিবাদ নিয়ে বাংলাদেশে এরকম কমার্শিয়াল ও মেইনস্ট্রিম সিনেমা সম্ভবত এর আগে হয়নি। স্ক্রিপ্ট অ্যাকশন থ্রিলার হিসেবে অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক।
ছবিটিতে এই সময়ের জঙ্গিবাদের ধরন এবং মগজধোলাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ওঠে এসেছে। সমস্যাটিকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুলিশ অ্যাকশন ক্রাইমের আদলে এক্সকিউট করা হয়েছে। সমস্যাটিকে তুলে ধরতে ইতিহাস ভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস টিউশন দেওয়া হয়েছে ছবির শুরুতেই। ঢাকা অ্যাটাক’র ব্যাপক সাফল্যের পর দ্বিতীয় প্রয়াস ‘মিশন এক্সট্রিম’ ২০২০ সালের ঈদুল ফিতরে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে স্থগিত হওয়ায় এবছর মুক্তি দেওয়া হলো।
মিশন এক্সট্রিম’র জন্য শুরু থেকেই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে দেখা গেছে আরিফিন শুভকে। সিনেমাটিতে বডি ট্রান্সফরমেশন করে দারুণ সাড়া ফেলে দিয়েছেন তিনি। শুভ অনায়াসে সিনেমার চরিত্র নাভিদ শাহরিয়ার হয়ে উঠেছেন এবং অভিনয়, স্মার্টনেস, অ্যাকশনে দর্শক মন জয় করেছেন। মিশন এক্সট্রিমে বাংলাদেশ পুলিশের একটি স্পেশাল ফোর্সকে দেখানো হয়েছে। যে ফোর্সের সদস্যরা সরাসরি জঙ্গিদের আস্তানায় ঢুকে তাদের অস্তিত্ব শেষ করে। তাছাড়া এই টিম পরিস্হিতি অনুযায়ী অনেক কৌশল অবলম্বন করে থাকে। এতে আরিফিন শুভকে দেখা গেছে সেই ফোর্সের একজন সদস্য হিসেবে। এই সিনেমার জন্য তার পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। অভিনয়ে তার পরিমিতি বোধ চোখ জুড়িয়েছে। বিশেষ করে তার এন্ট্রি দৃশ্য, সহকর্মীর মৃতু্যতে চোখের অভিব্যক্তি, ক্লাব থেকে বোম ডিজপোজালের দৃশ্যে অভিনয় দারুণ লেগেছে। অ্যাকশন দৃশ্যের চিত্রায়নে কিছুটা হলেও আন্তর্জাতিকের ছোঁয়া রয়েছে। পুলিশ কিংবা যেকোনো বাহিনীর স্পেশাল ফোর্স এর সদস্য হওয়া এত সহজ নয়।
জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীর অভিনয় প্রথম ছবি হিসেবে যথেষ্ট ন্যাচারাল ছিল। তবে ঐশীর অভিনয় একেবারে যেন পাশের বাড়ির মেয়ের মতোই। এমন স্বাভাবিক অভিনয় প্রথম সিনেমা হিসেবে তার জন্য বড় বিষয়। তিনি চেষ্টা করেছেন সাধ্যমতো, আশা করা যায় ভবিষ্যতে তিনি আরও বিস্তারিত চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাবেন। মূল নায়িকা ঐশীর তুলনায় সাদিয়া নাবিলার অভিনয় বেশি ভালো লেগেছে। তাকে দেখে হয়তো বহু নারী পুলিশে যোগ দিতে উত্সাহী হবেন। অত্যন্ত স্মার্টভাবে ন্যাকামিবিহীন ও সাবলীল অভিনয় করেছেন। আমাদের সমাজে একজন পেশাজীবী নারীকে কী ধরনের সামাজিক চাপের ভেতর দিয়ে যেতে হয়, এটা তার চরিত্রে স্বল্প পরিসরে হলেও ফুটে উঠেছে।
খলনায়ক হিসেবে তাসকিন রহমান আবারও জ্বলে উঠেছেন স্ব-মহিমায়। ঢাকা এ্যাটাকে তার দুর্দান্ত অভিষেক মুগ্ধ করেছিল দর্শকদের। তিন বছর পর ঢাকা অ্যাটাকের সিক্যুয়ালে নির্মিত ‘মিশন এক্সট্রিম’-এও বাজিমাত করলেন তাসকিন। তার সংলাপ ‘বেহেস্তে আমাদের দেখা হবে’ দর্শকের হৃদয় আলোড়িত করেছে।
তাছাড়া ইরেশ যাকের, শতাব্দী ওয়াদুদ অল্প সময় পর্দায় থাকলেও তাদের অভিনয়ের ক্যারিশমা দেখিয়েছেন। ঠান্ডা মাথার ইরেশ ডাকের চরিত্রটিও দারুণ, বিশেষ করে তার অভিনয় আকর্ষণ করেছে দর্শকদের। অভিনেতাদের মধ্যে রাশেদ মামুন অপু, মনোজ প্রামাণিক ও সুদীপ বিশ্বাস দীপ জ্বলে উঠার আগেই সিনেমার মধ্যেই উধাও হতে হয়েছে। তবে সবাই ন্যাচারাল পারফরম্যান্স করেছেন।
ক্যামেরা, মিউজিক, এডিটিংসহ ছবিটির সবকিছুই ভালো ছিল। ক্যামেরার কারুকাজ আর এডিটিংয়ের ম্যাচকাট তৃপ্ত করেছে। সিনেমাটোগ্রাফি ভালো ছিল। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দারুণ লেগেছে। এখানে স্মার্টনেস হচ্ছে খুব ছোট দৃশ্য—কিন্তু সব সুস্পষ্ট। সংলাপ লেখায় মুন্সিয়ানা চোখ এড়ায়নি। জঙ্গিরা যেসব শব্দ ব্যবহার করে, লেখক ঠিক সেসব শব্দই অভিনেতাদের মুখে বসিয়েছেন। সিনেমাটির শুটিং হয়েছিল বাংলাদেশ ও দুবাইয়ে।

