এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের অধিকাংশ যাত্রী বরগুনার

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৫:৪৪

এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুনের ঘটনায় আহত ও নিহতের অধিকাংশই বরগুনার বাসিন্দা। নিখোঁজ যাত্রীদের মধ্যে এখনো পর্যন্ত ১৯ জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ওই যাত্রীদের স্বজনরা বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঝালকাঠি হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে গিয়েও সন্ধান পাননি। 

বরগুনার সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামের রিপন জানান, আগুনের ঘটনায় তার ফুপাত ভাই খাজুরা এলাকার মইন ও ফুপাত ভাইয়ের ছেলে আবদুল্লাহ ও তার শালী আছিয়া নিখোঁজ রয়েছেন। হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে খোঁজ নিলেও তাদের খোঁজ মেলেনি। 

স্বজনরা জানান, বরগুনার মাইঠা এলাকার ইদ্রিস খান, নলী এলাকার আবদুল হাকিম, চাঁদপুরের মনোয়ারা, পাথরঘাটার টেংরার পপি আক্তার, পাথরঘাটা পৌরসভার তালতলা এলাকার আবদুর রাজ্জাক, পাথরঘাটার কালমেঘার কালিবাড়ি এলাকার রাকিব মিয়া, বরগুনা সদরের হাফেজ তুহিনের মেয়ে (নাম জানা যায়নি), সদরের ছোট আমতলী এলাকার জয়নব বেগম, মির্জাগঞ্জ উপজেলার রিনা বেগম ও তার মেয়ে রিমা, বরগুনা সদরের পরীরখাল এলাকার মা-মেয়ে রাজিয়া ও নুসরাত, বরগুনা ঢলুয়া এলাকার মোল্লারহোড়া গ্রামের মা তাসলিমা (৩৫) ও তার মেয়ে মিম (১৫) তানিশা (১২) ও ছেলে  জুনায়েদ নিখোঁজ রয়েছেন।

এছাড়া বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় ১০ যাত্রী বেঁচে ফিরেছেন। এদের মধ্যে ঘটনার সময় লঞ্চে ছিলেন বরগুনা সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের হেউলিবুনিয়া এলাকার সাদিক মৃধা। তিনি জানান, রাত ৩টার দিকে ইঞ্জিনরুম থেকে বিকট বিষ্ফোরণের শব্দ হয়। মুহূর্তে গোটা লঞ্চ ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এ সময় ডেকে ঘুমন্ত যাত্রীরা জেগে উঠে ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ কেউ নদীতে লাফ দেয়। একপর্যায়ে উদ্ধারে কয়েকটি ট্রলার এগিয়ে আসে এবং যাত্রীদের অনেকে ট্রলারে উঠে তীরে নামেন।

তিনি বলেন, মূলত আগুন লাগার পর লঞ্চটি তীরে নোঙর করার মত কেউ ছিলনা। লঞ্চ জোয়ারের তোরে ভাসতে থাকে।  

নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার ও আহতদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার করে টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বরগুনার জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, যেহেতু লঞ্চটি বরগুনায় আসছিল, যাত্রীদের অনেকেই বরগুনার। আমরা ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে ঘটনাস্থলে টিম পাঠিয়েছি। নিহতের পরিচয় জানার চেষ্টা করছি।