কক্সবাজার বেড়াতে এসে গণধর্ষণের স্বীকার ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার স্বামী জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজিনের আদালতে তারা জবানবন্দি দেন।
কক্সবাজার টুরিস্ট জোনের এসপি জিল্লুর রহমান জানান, নিয়ম অনুযায়ী ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের (ভিকটিম নারী ও তার স্বামী) আদালতে তোলা হয়। তারা সেখানে আদালতকে ঘটনার বর্ণনা দেন। আদালতে তোলার আগে আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।
এদিকে টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, ওই নারীকে ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে অনেক 'রহস্য' পাওয়া যাচ্ছে। ভিকটিমের বক্তব্যের সঙ্গে স্বামীর বক্তব্যের মিল নেই। গত কয়েক মাসে তারা বেশ কয়েকবার কক্সবাজার এসেছেন। নানা হোটেল ও কটেজে তাদের অবস্থানের তথ্যও মিলেছে। একেক জায়গায় তারা ভিন্ন নাম ব্যবহার করেছে।
এর আগে ধর্ষণের শিকার ওই নারী জানান, বুধবার সকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজারে বেড়াতে যান তারা। ওঠেন শহরের হলিডে মোড়ের একটি হোটেলে। বিকেলে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ঘুরতে গিয়ে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগলে কথা কাটাকাটি হয়। সন্ধ্যায় পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার ৮ মাসের সন্তান ও স্বামীকে অটোরিকশায় করে তুলে নিয়ে যায়। আরেকটি অটোরিকশায় তিন যুবক তাকে তুলে নিয়ে যায় পর্যটন গলফ মাঠের পেছনে একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানের পেছনে। সেখানে পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর তাকে নেওয়া হয় জিয়া গেস্ট ইন নামে একটি হোটেলে। সেখানে ইয়াবা সেবনের পর আরেক দফা তাকে ধর্ষণ করেন ওই তিন যুবক। এই ঘটনা কাউকে জানালে সন্তান ও স্বামীকে হত্যা করা হবে জানিয়ে রুম বাইরে থেকে বন্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
ওই নারী আরও জানান, জিয়া গেস্ট ইনের তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে এক যুবকের সহায়তায় কক্ষের দরজা খোলেন তিনি। তারপর ফোন দেন ৯৯৯-এ। পুলিশ তাকে থানায় সাধারণ ডায়রি করার পরামর্শ দেয়। আরেকজনের সহযোগিতায় কল দেন র্যাবকে। র্যাব অভিযান চালিয়ে নারীকে উদ্ধার করে পর্যটন গলফ মাঠ এলাকা থেকে স্বামী ও সন্তানকে উদ্ধার করে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাসানুজ্জামান জানান, ধর্ষণের সময় কিংবা ওইদিনে তারা ৯৯৯ নম্বরে কোনো ফোন আসেনি। আমি থানার অফিসারদের সঙ্গেও কথা বলেছি, তারাও জানিয়েছেন ৯৯৯-এ নারী ও তার স্বামী কেউ ফোন করেননি।

কক্সবাজারে পর্যটককে ধর্ষণ: ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা