‘এত নিরহংকারী শিল্পী আমি দেখিনি!’

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:৩৫

ক্রেজি ভক্ত হিসেবেই প্রথম তার নৈকট্য পাওয়া। প্রিন্সেস টিনা খান ছবির সেই বিখ্যাত চিত্রনায়িকা টিনা খানের কন্যা রিমু রোজা খন্দকার। অভিনেত্রী রিমু রোজা খন্দকারের সঙ্গে বলিউডের রাভিনা ট্যান্ডনের সখ্যতার কথা হয়তো অনেকেই জানেন না!

অতি সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের নতুন একটি ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে আবারো কামব্যাক করেছেন রাভিনা ট্যান্ডন। বিনয় ওয়াকিলের পরিচালনায় এই থ্রিলার সিরিজের নাম ‘আরণ্যক’। সিরিজটি এরই ভেতরে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

বাংলাদেশি অভিনেত্রী রিমু বলেন, ‘আরণ্যক দেখার পর রাভিনাকে ফোন না করে থাকতে পারিনি। হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল দিই। এর আগে ভাচু‌র্য়ালি ওর সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়।’

প্রথম পরিচয়ের কথা জানতে চাইলে রিমু বলেন, ‘গত ৬ বছর ধরে রাভিনা ট্যান্ডনের সঙ্গে আমার যোগাযোগ। প্রথমে অন্ধভক্ত হিসেবেই কথা শুরু। এরপর যখন রাভিনা শুনলেন আমিও অভিনয় করি। আমার মা এদেশের বিখ্যাত একজন চিত্রনায়িকা। এরপর রাভিনা একজন কলিগ হিসেবে ভীষণ ভালোবাসতে লাগলেন। আজও সেই সম্পর্কটা বিদ্যমান। এত বড় তারকা অথচ একবিন্দু অহংকার নেই। ২০১৭ সাল থেকে শুরু করে এমন একটি বছরও নেই, যে বছরের জন্মদিনে রাভিনা ট্যান্ডন আমাকে আলাদাভাবে উইশ করেননি। শুধু উইশই নয়, নিজের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট থেকে আমার ছবি দিয়ে তিনি প্রতি বার্থডেতে লেখেন। একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজের প্রিয় এত বড় তারকার ভালোবাসা পাওয়া খুবই ভাগ্যের ব্যাপার বলে মনে করি। রমেশ সিপ্পির প্রযোজনায় আরণ্যক সিরিজটি দেখে মুগ্ধ হয়ে রাভিনাকে যখন ফোন করে বলি, আমি ভেবেছি এখন এত ব্যস্ততার ভিড়ে আমার ফোনটা তুমি ধরবে কি-না? রাভিনা আমাকে জবাব দেয়, তুমি তো কলিজার টুকরা। আমার বন্ধু। তোমার ফোন কেন ধরবো না? এবারে আরণ্যক দেখে কোথায় আমার অভিনয় খারাপ লেগেছে এটা বলো? আমি বলি, আমি হা হয়ে তাকিয়ে তোমার অভিনয় দেখছিলাম যে, এত বছর গ্যাপ দিয়েও এত সাবলীল অভিনয় তুমি কী করে করো? রাভিনা বলছিলেন, না ভক্তের চোখ দিয়ে দেখা যাবে না। সাধারণ চোখ দিয়ে দেখে আমার ভুলগুলো বলো আমাকে।

আমি ভাবি আর অবাক হই। এতবড় কিংবদন্তী এক বলিউড অভিনেত্রী কী করে এত সারল্য নিজের ভেতরে ধারণ করে! গত বছর পূজোয় আমি ওকে শাড়ি পাঠাবো বলে ওর বাড়ির ঠিকানা চাই। ও আমার শাড়ি পেয়ে বিশাল মেসেজ পাঠায়। আমাকে মুম্বাই গেলে ওর বাসায় থাকতে বলেছে। এর পরপরই কোভিড চলে আসায় আর যাওয়া হয়নি। একজন প্রকৃত শিল্পীই আসলে জানেন কী করে তার সহকর্মীকে ভালোবাসতে হয়। আমি না হয়, ওর থেকে অনেক ক্ষুদ্র এক অভিনেত্রী। কিন্তু শিল্পী হিসেবে আমার কিছু অভিনয়ের ক্লিপিং দেখে এত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন, যা বলার না। ও বাংলা অল্প বিস্তর বোঝে।

এখন আমার কাছে বাংলাটাও শিখতে চায়। আমি জানি এসব হয়তো সৌজন্যতার জন্যই বলে সে। কিন্তু ওর এই দারুণ ব্যবহারকেও আমি সম্মান করি আর ভাবি আমাদের দেশের সিনিয়ররা যদি তাদের নিজের দম্ভের বাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে আমাদের হাতটা একটু ধরে বলতো? কেমন আছিস? কী যে সাহস পেতাম! গত ৬ বছর ধরে রাভিনা ট্যান্ডনের মতো অভিনেত্রী আমাকে জন্মদিনের উইশ করতে ভোলে না। অথচ কাছের কত কলিগ জন্মদিনের কথা জেনেও উইশ করতে চায় না। এটাই আমাদের পার্থক্য! রাভিনাকে নিয়ে শুধু এটুকুই বলবো। এত নিরহঙ্কারী শিল্পী আমি দেখিনি। ওর থেকে আমাদের শেখার আছে অনেককিছু।’

ইত্তেফাক/এমআর