সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় হুইপ অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি বলেছেন, সংবাদে সামান্যতম ত্রুটি-বিচ্যুতি হলেও তা সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হয়। একটা ভুল সংবাদের কারণে একজন ব্যক্তির সারাজীবনের অর্জন ম্লান হয়ে যায়। এ কারণে সাংবাদিকতা খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। যারা সাংবাদিকতা করেন তাদেরকে খুবই বিচক্ষণতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় সুনামগঞ্জ শহরের হোটেল রয়াল ইন-এর কনফারেন্স রুমে দৈনিক ইত্তেফাকের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মিসবাহ এমপি।
পীর মিসবাহ আরও বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় ইত্তেফাক একটি মহীরুহ। সঠিক ও নির্ভীক সাংবাদিকতায় ইত্তেফাকের সুনাম অনস্বীকার্য। অন্য যেকোনো গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি সংবাদকে যাচাই করতে হলে আজও মানুষ ইত্তেফাককে অনুসরণ করে। এ দেশের স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসের সাথে ইত্তেফাক ও তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ওতপ্রেতভাবে জড়িয়ে আছেন। বস্ত্যনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতায় ইত্তেফাক সবসময়ই অনন্য।
এই সংসদ সদস্য বলেন, 'ইত্তেফাকের জন্মদিনের এই অনুষ্ঠানে আপনাদেরকে একটি আশার কথা বলতে চাই। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সুনামগঞ্জ শহরের প্রবেশমুখের সড়কটি প্রশস্ত করা প্রয়োজন। এ জন্য আমি সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। মাননীয় যোগাযোগমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলব। ইনশাআল্লাহ সুনামগঞ্জ শহরের ভেতর পর্যন্ত এ সড়কটি দুই পাশে ৬০ ফুট প্রশস্ত করা হবে। একসময় আমি সাংবাদিক ছিলাম, সে হিসেবে আমি আপনাদের সহকর্মী। আমি সংসদ সদস্য হিসেবে নয়—সহকর্মী হিসেবে আপনাদের অনুরোধ করব, উন্নয়ন ও সম্ভাবনার খবরের পাশাপাশি অনিয়মের কথাও গুরুত্ব দিয়ে লিখুন। আমি অনিয়ম করলে আমাকেও ছাড় দেবেন না।'
ইত্তেফাকের সুনামগঞ্জে জেলা প্রতিনিধি মো. বুরহান উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও প্রাক্তন সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ মোনাওয়ার আলী।
বক্তারা বলেন, দৈনিক ইত্তেফাক এ দেশের ঐহিত্যবাহী গণমাধ্যম। সুদীর্ঘ গৌরবের পথ পাড়ি দিয়ে ইত্তেফাক ৬৯তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। গণমানুষের মুখপাত্র এই পত্রিকাটির পথচলা আরও যুগ যুগ ধরে অব্যাহত থাকুক।
আলোচনার পর কেক কেটে ইত্তেফাকের জন্মদিন উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল, বিটিভির সাংবাদিক অ্যাডভোকেট আইনুল ইসলাম বাবলু, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়া, জগৎজ্যোতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ, পৌরসভার প্যানেল মেয়র আহমদ নূর, সমাজসেবক দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী সুমন, পৌর কলেজের প্রভাষক শুভংকর তালুকদার মান্না, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র বর্মণ, অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান শাহীন, ক্রীড়া সংগঠক দিলারা বেগম।
এর আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইত্তেফাকের ফিচার রিপোর্টার সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার খলিল রহমান, আমাদের সময়ের জেলা প্রতিনিধি বিন্দু তালুকদার, মোহনা টিভির সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি কুলেন্দু শেখর দাশ, চ্যানেল ২৪-এর জেলা প্রতিনিধি এআর জুয়েল, শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন, সুনামগঞ্জ মিররের যুগ্ম-সম্পাদক সাদিকুল আলম প্রমুখ।
