পুলিশ কনস্টেবলের পরীক্ষায় সাধারণ নারী কোটায় মেধা তালিকায় প্রথম হয়েছিলেন মিম আক্তার । কিন্তু জমি না থাকায় চাকরি পাচ্ছিলেন না মিম। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে পুলিশে চাকরি নিশ্চিত হয়েছে তার। ইতিমধ্যে পুলিশ কনস্টেবল পদে ট্রেনিংয়ের জন্য ডাকা হয়েছে মিমকে। বিষয়টি শনিবার নিশ্চিত করেছেন খুলনা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর আহম্মেদ।
এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর খুলনা টেক্সটাইল মিল পুলিশ ফাঁড়ি থেকে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিকাইল প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের নোটিসটি মিমের হাতে তুলে দেন।
মিমকে দেওয়া নোটিসে, আগামী ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় খুলনার পুরাতন পুলিশ লাইন্সের রিজার্ভ অফিস এবং পরের দিন (৩০ ডিসেম্বর) রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে তাকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকা তৃতীয় ফেজের ১ নম্বর সড়কের ভেতরে ডা. বাবর আলীর বাড়িতে ভাড়া থাকেন মিমরা। মা আছিয়া খাতুন গৃহিণী। মিমরা ৪ বোন।
২০১৯ সালে নগরীর পিডব্লিউডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৪ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট পেয়ে এসএসসি পাস করেন মিম। খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।
নারী কোটায় কনস্টেবল পদে আবেদন করে লিখিত পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথম হন মিম আক্তার। কিন্তু খুলনা শহরে তার স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় মেধা তালিকায় প্রথম হলেও চাকরিটি তাকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে ১১ ডিসেম্বর মিমকে খুলনার পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়। অপ্রত্যাশিত এ খবরে মিমের পরিবারের দুশ্চিন্তা ভর করে। বিষয়টি ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন মিম। মিমকে নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করে পুলিশ বিভাগ। পাশে দাঁড়ান খুলনা জেলা প্রশাসকও।
মিমের বাবা মো. রবিউল ইসলাম জানান, তার পৈতৃক বাড়ি বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানার বড়বাড়িয়া গ্রামে। ভিটেবাড়ির জমিটুকুও বাবা আব্দুল লতিফের নামে রয়েছে। অভাব-অনটনের কারণে ১৯৮৮ সাল থেকে দীর্ঘ ৩২ বছর আমি খুলনায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছি। খুলনার বয়রা ক্রস রোডে ‘বেডিং হাউজ’ নামে আমার লেপ-তোশকের একটি দোকানটিও রয়েছে। এছাড়া মিমের জন্মও খুলনাতে। জন্ম সনদে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশনের নাম।
তিনি বলেন, এখানে আমাদের কোনো স্থায়ী জমি না থাকায় মিমের চাকরিটা হচ্ছিল না। তবে সাংবাদিক ভাইদের সহযোগিতায় চাকরিটা পেয়েছে মিম। শুক্রবার সন্ধ্যার পর টেক্সটাইল মিল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিকাইল আমাকে ও মিমকে ডেকে একটি নোটিস দিয়েছেন। নোটিসে মিমকে পুলিশ ট্রেনিংয়ের জন্য ডাকা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসক ঘর দেবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, চাকরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছেন মিম আক্তার। তিনি বলেন, পুলিশের দায়িত্ব পালনকালে যদি কখনও অসহায় মানুষ সামনে আসে তবে তার প্রতি আমার সহমর্মিতা অবশ্যই থাকবে। তাদের পাশে দাঁড়াব। যারা বিপদের দিনে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মিম।
খুলনা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর আহম্মেদ জানান, পুলিশ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে সাধারণ নারী কোটায় মেধা তালিকায় প্রথম হয় মিম আক্তার। তবে পুলিশ ফেরিফিকেশনে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। আমরা ঘটনাটি পুলিশ হেড কোয়ার্টারকে জানাই। অবশেষে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশনায় মিমের আবেদন আমরা গ্রহণ করেছি। ট্রেনিংয়ের জন্য মিমকে ডাকা হয়েছে। ট্রেনিং শেষে মিমকে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র প্রদান করা হবে।

দেশের কোথাও সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের জায়গা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
শান্তি ও কল্যাণের বাণী নিয়ে বড়দিন উদযাপন