মানবাধিকারকর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জহিরুল হাসান (জেড আই) খান পান্নার মেয়ে নাদিমা মোহাম্মদী খান (৩৯) বরিশাল নগরের নিজ বাসভবনে হামলার শিকার হয়েছেন। হামলায় আহত হয়ে নাদিমা খান শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে এ ঘটনায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় পাঁচ হামলাকারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। শনিবার রাতে বরিশাল নগরের সদর রোডের বাসায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে নাদিমা মোহাম্মদী খান উল্লেখ করেন, ‘গত শনিবার আমি ও আমার চাচাতো বোন বাড়িতে আসি। সেখানে কিছু যুবক বাড়ির মধ্যে আবর্জনা ফেলে রাখে এবং মাদক সেবন ও মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছিল। আমরা এর প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ২৫ থেকে ৩০ জন সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তখন আমি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করি।’
নাদিমার দাবি, ‘আমার চাচা নজরুল ইসলাম খানের উসকানি ও প্রশ্রয়ে আমাকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা এবং যাতে আমি আর বাড়িতে না আসি, সে উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।’
ঘটনার পর পুলিশকে অবহিত করা হয় এবং রেজাউল ইসলাম সাব্বির, জাহিদুল ইসলাম রাজুসহ পাঁচ হামলাকারীর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি তার (নাদিমা) কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সেই দাবিতে রাজি না হওয়ায় মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের একটি সংঘবদ্ধ দল শনিবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠি দিয়ে মারধর করে তাকে আহত করেন।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. আল মামুন ইসলাম জানান, এই ঘটনায় চাঁদনী নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মো. হান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

