মহানগর বিএনপির সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতির পর এবার খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদও হারালেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে- উল্লেখ করে শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর জায়গায় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে অমিত বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এদিকে, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে অব্যাহতি দেওয়ায় তার অনুসারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার চিঠি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘১৯৭৯ সালে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমি দলের বিরুদ্ধে কখনো কোনো কথা বলিনি। আমি দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি। ভালো মানুষের দল বানানোর কথা বলেছি। ব্যক্তিগতভাবে কাউকে আঘাত করিনি, কারো বিরুদ্ধে কথা বলিনি। দলের দিকে তাকিয়ে কথা বলেছি। দল পুনর্গঠনে গত চার বছরে খুলনায় যা হয়েছে, তার প্রতিকারের জন্য কেন্দ্রের কাছে ২৯ পাতার আবেদন করেছিলাম। সেটির মূল্যায়ন করা হয়নি। আমার বিরুদ্ধে অবিচার করা হয়েছে। ’
ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমি আজ (শনিবার) দুপুরে ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার চিঠি হাতে পেয়েছি। কেন আমাকে দল দায়িত্ব দিয়েছে, সেটি দলই ভালো বলতে পারবে। আমি দলের কাছে ও দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তবে, উনাকে (নজরুল ইসলাম মঞ্জু) কেন সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এই বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।
বিএনপি সূত্র জানায়, গত ৯ ডিসেম্বর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আংশিক আহবায়ক কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। কেন্দ্র ঘোষিত মহানগর কমিটির আহবায়ক করা হয় সাবেক জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা, যুগ্ম আহবায়ক তরিকুল ইসলাম জহির ও সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনকে।
অপরদিকে জেলা বিএনপির আহবায়ক করা হয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান, যুগ্ম আহবায়ক আবু হোসেন বাবু ও সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পীকে।
আহবায়ক কমিটি ঘোষণার দুদিন পর গত ১২ ডিসেম্বর সাবেক মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু তার সমর্থকদের নিয়ে বিএনপি খুলনার ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে মহানগর বিএনপির কমিটি পুনরায় মূল্যায়নের দাবি জানান। যা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা তার ওপর নাখোশ হন। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনের কয়েকটি বক্তব্যের জন্য তাকে তিন দিনের সময় দিয়ে শোকজ করা হয়। এছাড়া ১২ ডিসেম্বর বিকালে মহানগর আহবায়ক কমিটি দলীয় কার্যালয়ে পাল্টা সমাবেশ করে।
এদিকে, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে অব্যাহতি দেওয়ায় তার অনুসারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সাহারুজ্জামান মুকুল বলেন, বিএনপির রাজনীতি করার জন্য অনেক মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। আমরা আর বিএনপির রাজনীতি করব না।
খুলনা মহানগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এস কে এ তরিকুল্লাহ খান ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদ কামাল টিটো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আমরা ওয়ার্ড বিএনপির সকল নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের মতো প্রত্যেক ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা পদত্যাগ করবে।
মহানগর বিএনপির সদ্য সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মাহবুব কায়সার বলেন, মঞ্জুর মতো ত্যাগী নেতাকে অব্যাহতি দেওয়ায় খুলনা মহানগরীর নেতাকর্মীদের অপমান করা হয়েছে। আমরা মঞ্জুর জন্য অপেক্ষা না করে এর প্রতিবাদে একযোগে পদত্যাগ করার উদ্যোগ নিয়েছি।
মহানগর বিএনপির সদ্য সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেন, আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না।
খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন, নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি অব্যাহতি দিয়েছে। এ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় কমিটিই বলতে পারবে। এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।
