কক্সবাজারে ধর্ষণের ঘটনায় হোটেল ব্যবস্থাপক রিমান্ডে

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২১:০২

কক্সবাজারে নারী পর্যটককে ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার জিয়া গেস্ট ইন হোটেলের ব্যবস্থাপক রিয়াজুদ্দিন ছোটনকে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক রুহুল আমিন সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের এসপি জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, নারী পর্যটককে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার হোটেল ব্যবস্থাপক রিয়াজুদ্দিনকে এ মামলার তদন্তের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। মামলাটির তদন্ত গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হচ্ছে। ধর্ষণের ঘটনায় শনাক্ত মূল আসামি আশিক, বাবু জয়সহ আরও যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ সুপার জানান, ধর্ষণ মামলাটি হওয়ার পর তদন্ত করার জন্য টুরিস্ট পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে টুরিস্ট পুলিশ ভিকটিম নারীর মেডিক্যাল রিপোর্টসহ নানা প্রয়োজনীয় কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে। আমরা চাই মামলাটি তদন্ত সাপেক্ষে আসল ঘটনা উৎঘাটিত হোক এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক।

এর আগে শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হামীমুন তানজীনের আদালতে জবানবন্দি দেন ওই নারী পর্যটক।

গত ২২ ডিসেম্বর রাতে কক্সবাজার বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার হন নারী পর্যটক। ভিকটিম নারীর ভাষ্য, ‘স্বামী-সন্তান নিয়ে ওইদিন সকালে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পৌঁছেন। উঠেন শহরের হলিডে সি-ল্যান্ডের ২০১ নম্বর কক্ষে। ওইদিন বিকেলে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে লাবণী বিচে যান। রাতে হোটেলে ফেরার পথে এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগে। এতে স্বামীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে ওই যুবক। বাধা দিলে তার সঙ্গেও তর্কে জড়ায় যুবকটি। ওই সময় আরও দুই যুবক ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়। তারা স্বামী-সন্তানকে ইজিবাইকে তুলে দিয়ে ওই নারীকে আলাদা করে ফেলে। পরে ওই এলাকার একটি ঝুপড়ি ঘরে নিয়ে তিনজনে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর স্বামী-সন্তানকে হত্যার ভয় দেখিয়ে শহরের জিয়া গেস্ট ইন নামের একটি হোটেলে নিয়ে যায়।’
এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আশিক-বাবু-জয়, রিয়াজুদ্দিনের নাম উল্লেখ করে আরও দুই থেকে তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। 

ইত্তেফাক/ইউবি