দীর্ঘ ১৪ বছরেও শেষ হয়নি রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকায় চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী মনসুর মল্লিক হত্যা মামলা। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছেন।
নিহতের স্ত্রী তাসলিমা বেগম তার স্বামীর হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের প্রত্যাশা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, খুনিরা এখনো মাঝে-মধ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বাদীকে।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, পল্লবী থানার সেকশন ১০/সি, রোড-১৪, বাসা নং-১-এর বাসিন্দা ব্যবসায়ী মনসুর মল্লিক ১০ নম্বর সেকশনের ডি ব্লকে একটি ডেইরি ফার্ম করতেন। ডেইরি ফার্মটি একটি গ্রুপ দখল করে নিতে চায়।
এর আগে সন্ত্রাসীরা তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ নিয়ে স্থানীয় দখলবাজ ও চাঁদাবাজ গ্রুপের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব চলছিল। ২০০৭ সালের ১২ মে সকাল ১০টার দিকে তিনি তার ঐ ডেইরি ফার্মে অবস্থান করছিলেন।
এ সময় একটি প্রাইভেট কারে করে চার/পাঁচ জন সন্ত্রাসী এসে প্রকাশ্য দিবালোকে মনসুর মল্লিককে লক্ষ্য করে গুলি করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যার ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তাসলিমা বেগম বাদী হয়ে পল্লবী থানায় ঐ দিন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে মোফাজ্জল হোসেন, জহিরুল হাসান ওরফে জহির, হাজি আফসার উদ্দিন, সফি উদ্দিন, আব্দুল খালেক, সফি হোসেন, আসাদুজ্জামান ও রফিকুল ইসলামসহ ৩৬ জনকে আসামি করে চার্জশিট দেয়। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন। আসামিদের মধ্যে অনেকেই মারা গেছেন। আবার অনেকেই জামিনে বের হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেউ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
মামলার বাদী তাসলিমা বেগম অভিযোগ করেন, আসামি মোফাজ্জল হোসেনসহ অনেকই তাকে হুমকি দিচ্ছেন। বলা হচ্ছে, যা হয়েছে তা নিয়ে আর ঘাটাঘাটি না করে মামলা তুলে নেওয়া হোক।
