রমনা পার্কের ৯টি গেটের চারটি বন্ধ, দুর্ভোগে দর্শনার্থীরা 

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:০২

রাজধানী ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য বিনোদন এবং অবসর সময় কাটানোর অন্যতম সবুজ ভূমি রমনা পার্ক। করোনার অজুহাতে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল পার্কটি। নাগরিক সমাজের তীব্র সমালোচনার মুখে গত সেপ্টেম্বরে খুলে দেওয়া হয় এটি। কিন্তু তাতেও সংকট কাটেনি। 

রমনা পার্ক খুললেও তা সাধারণ মানুষের জন্য এখনো উন্মুক্ত থাকে দিনের নির্দিষ্ট সময়। আর পার্কের ৯টি গেটের চারটিই বন্ধ থাকে সবসময়। এতে পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনাথী‌র্রা পার্কটিতে নির্দিষ্ট সময় ছাড়া প্রবেশ করতে পারছেন না।

এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ বলেন, নানা সময়ে খোঁড়া অজুহাত দিয়ে, কখনো করোনা, কখনো ঘাস নষ্ট হয়ে যাবে, এলাকার বাইরের মানুষ ঢুকতে পারবে না এ ধরনের অজুহাত দেখিয়ে পার্কগুলো বন্ধ রাখা হয়। জনপরিসরের ওপরে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের বাধা যখন সৃষ্টি হবে তখন নগরের মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

রমনা পার্ক। ছবি: সংগৃহীত

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, করোনার কারণে সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা ও দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত পার্কটি খোলা থাকবে এমন একটি লেখা গেটে ঝুলছে। এছাড়া পার্কটি খোলার এই নির্দিষ্ট সময়েও ৯টি গেটের মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, আইইবি, হাইকোর্টের বিপরীত পাশের তিনটি গেট এবং কাকরাইল মসজিদের পাশের গেটটি বন্ধ রয়েছে। এসব বন্ধ গেটের সামনে ও আশপাশে ভ্রাম্যমাণ দোকানও বসেছে বেশ কয়েকটি। 

চানাচুরওয়ালা, চা-মুড়ি বিক্রেতাদের বসার কারণে পথচারীরাও অসুবিধার মুখে পড়ছেন। করোনার প্রকোপ কমে গিয়ে সবকিছু স্বাভাবিক হলেও রাজধানীর উল্লেখযোগ্য এই প্রাকৃতিক খোলা জায়গাটি এখনো পুরো সময় খুলে না দেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছে দর্শনাথী‌র্রা। 

তারা বলছেন, নগরায়ণের প্রভাবে ঢাকায় সবুজ ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। এছাড়াও বিনোদনের জায়গাও সীমিত হয়ে পড়ছে। এদিকে রমনা পার্কও প্রতিদিনের নির্দিষ্ট একটি সময় খোলা রাখায় মানুষের বিনোদনের স্থানের সংকট পড়ছে। একদিকে শিশু পার্ক, অন্যদিকে রমনা পার্ক প্রায় অর্ধবেলা বন্ধ। 

রমনা পার্ক। ছবি: সংগৃহীত

মানুষ বিনোদনের জন্য যাবে কোথায়? আব্দুল হালিম নামের এক দর্শনার্থী বলেন, কয়েক দিন আগে দুপুর ১২টায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পার্কে ঘুরতে এসেছিলাম। কিন্তু গেটে এসেই দেখি, পার্কের সবগুলো গেট বন্ধ। পরে এখানকার নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে জানলাম আগের মতো সবসময় খোলা থাকে না রমনা পার্ক। সকাল-বিকাল দুই সময়ে পার্ক খোলা থাকে। অন্যসময় বন্ধ থাকে। 

তিনি জানান, ঢাকা শহরে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার কোনো জায়গা নেই। একমাত্র জায়গা হচ্ছে রমনা পার্ক। সকাল-বিকাল দুই সময় অল্পকিছুক্ষণের জন্য পার্ক খোলা থাকলে মানুষের চিত্তবিনোদনের সংকট তৈরি হবে।

পার্ক খোলার বিষয়ে নিরাপত্তা প্রহরী আনসার সদস্য মো. সজল আলী বলেন, আগে পার্কের সবগুলো গেট খোলা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে পার্কটি। পরবর্তী সময়ে পার্ক খুললেও পার্কের ভেতরে থাকা হোটেল খোলা না থাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও হাইকোর্ট এলাকার বিপরীত পাশের তিনটি গেট খোলা হয় না। 

নিরাপত্তাপ্রহরী বন্ধ জানালেও রমনা পার্কের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সোহানুর রহমান বলেন, পার্কের কোনো গেট বন্ধ থাকে বলে মনে হয় না। তবে করোনা সংক্রমণের কারণে এবং পার্কের কিছু উন্নয়ন কাজের জন্য সময় সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাজ শেষ হলেই আমরা পার্কটি খুলে দেব। এ তিনটি গেট খোলা না থাকায় অসুবিধায় পড়তে হয় পথচারীদেরও। 

পার্কের মৎস্য ভবন সংলগ্ন গেট। ছবি: সংগৃহীত

আজাদ হোসেন নামের এক পথচারী বলেন, শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন পর্যন্ত ফুটপাতটি খুবই সরু। আমরা আগে রমনার ভেতর দিয়েই মত্স্য ভবনে যেতাম। কিন্তু এখন কয়েকটি গেট বন্ধ থাকায় পার্কের ভেতর দিয়ে যাওয়া যায় না। সরু ফুটপাত দিয়ে কষ্ট করে চলতে হয়। 

নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ জানান, ঢাকা শহরে উদ্যান ও পার্কের পরিমাণ খুবই নগণ্য। আমাদের প্রয়োজনের ১০ ভাগের এক ভাগ রয়েছে মাত্র। অথচ আমাদের আরো ৯ ভাগ প্রয়োজন। কিন্তু পরিকল্পনার অভাবে আমরা সেসব তৈরি করতে পারছি না। কোনো কারণ ছাড়াই এসব বন্ধ রাখা অযৌক্তিক। আর সব গেট-ই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিত।