নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র সিটি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে তৈমূর আলম খন্দকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে আসায় তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আভাস মিলেছে।
জানা গেছে, বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে না থাকলেও দলের নেতাকর্মীরা তৈমূরের পাশে রয়েছেন। তার নির্বাচনি গণসংযোগে বিপুল নেতাকর্মী যেমন উপস্থিত হচ্ছে একই সঙ্গে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে নগরীর সচেতন নাগরিক সমাজ।
এরই মধ্যে বড় চমক দেখিয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এস এম আকরামকে পাশে এনেছেন তৈমূর। যিনি সেলিনা হায়াৎ আইভীর বলয়ের প্রাণ শক্তি হিসেবে পরিচিত। আইভীর প্রথম নির্বাচনে ছিলেন মুখ্য ভূমিকায়। সেই আকরামকে পেয়ে আরো বেশি উজ্জীবিত তৈমূরের কর্মী-সমর্থকরা।
বিএনপির হাইকমান্ড এই নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করলেও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বরাবরই বলে আসছেন প্রতীক না দেওয়া দলের একটা কৌশল। তবে বিএনপি আমার সঙ্গে আছে। শুধু বিএনপি নয়, অন্য দলের নেতাকর্মী ও সচেতন নাগরিকরাও সঙ্গে আছে। আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রার্থী। জনগণই আমার মার্কা।
এদিকে গত সোমবার ঢাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াত্ আইভীর উপস্থিতিতে জেলা ও মহানগর কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
ঐ সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও বার্তায় সকল ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেন। সভায় নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান উপস্থিত ছিলেন না। সভা চলাকালীন তিনি মাসদাইর কবরস্থানে মা-বাবার কবর জিয়ারত করে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সভায় দলীয় প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর নির্বাচনের জন্য পরিচালনা কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে। পরের দিন মঙ্গলবার জেলা কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে। বৈঠকে এমপি শামীম ওসমানপন্থি শীর্ষ নেতাদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। দুই মেরুর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি শক্তিশালী অবস্থান আশা করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকারের পক্ষে মাঠে নামা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাটতে শুরু করেছে জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের। অনেকেই ইতিমধ্যে তৈমূরের পক্ষে নির্বাচনি মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রতীক পাওয়ার আগে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামবেন বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। ইতিমধ্যে দেওভোগে বিএনপি নেতা জাকির খানের কর্মী-সমর্থকদের তৈমূর আলম খন্দকারের সঙ্গে দেখা গেছে। জেলা বিএনপি নেতা জাহিদ হাসান রোজেলসহ অনেকেই দেওভোগের গণসংযোগে তৈমূর আলম খন্দকারের পাশে ছিলেন।
সন্ধ্যায় জেলা ও মহানগর শ্রমিক দল তৈমূর আলম খন্দকারের বাসভবনে মতবিনিময় সভা করে তাদের পূর্ণ সমর্থন দিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে। সাবেক এমপি মুহম্মদ গিয়াসউদ্দিন দুদকের মামলা দায়েরের পর আত্মগোপনে চলে গেলেও সিদ্ধিরগঞ্জে তার অনুসারী শীর্ষ নেতারা ইতিমধ্যে তৈমূরের সঙ্গে দেখা করে দিকনির্দেশনা নিয়ে গেছেন।
বুধবার রাতে তৈমূর আলম খন্দকারের বাসভবনে এসে পূর্ণ সমর্থন করেছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদের অনুসারী নেতাকর্মীরা। তারা মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। বন্দরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, বিএনপি নেতা হাজী নুরউদ্দিনের নেতৃত্বে প্রতিটি ওয়ার্ডে কর্মী সভা করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছেন।
দুই পক্ষের সার্বিক প্রস্ত্ততিতে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই শক্ত লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে সব প্রস্তুতির জবাব মিলবে ১৬ জানুয়ারি ভোটের ফলাফলের মধ্য দিয়ে। লড়াইটা হবে সেয়ানে সেয়ানে।
