জগন্নাথ কলেজে পড়ার সময় রফিক ছাত্র-রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪৮

স্বচ্ছ কোরায়শী

ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অন্যতম এবং উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা। বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও স্বাধিকার চেতনা জাগরণের এই অভূতপূর্ব সূচনালগ্ন স্বচক্ষে দেখার সুযোগ আমাদের তরুণ প্রজন্মের কারোরই হয়নি। তবে বইয়ের পাতায় জেনেছি তাঁদের কথা—যাঁরা মাতৃভাষার জন্য নিজের প্রাণ অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে এক অনন্য ও মহত্ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এমনই একজন বাঙালি জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান ভাষা শহিদ রফিক। রফিকের জন্ম ১৯২৬ সালের ৩০ অক্টোবর মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানার পারিল গ্রামে। তাঁর পুরো নাম রফিক উদ্দিন আহমেদ। তাঁর পিতা লতিফউদ্দিন ও মাতা রাফিজা খানমের ছিল পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে। রফিক ছিলেন ভাইবোনদের মধ্যে সবার বড়। তিনি সিংগাইর বায়রা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাস করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন জগন্নাথ কলেজে। জগন্নাথ কলেজে পড়ালেখার সময়েই তিনি ছাত্র-রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। পাশাপাশি তিনি বাবার ছাপাখানার ব্যবসাও দেখাশোনা করতেন। ১৯৫২ সালে বাঙালিরা যখন বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সোচ্চার তখন ছাত্রসমাজের আন্দোলনও তীব্রতর হয়ে ওঠে। আর এই সময়েই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার ব্যাপারে দেশব্যাপী জনমত গড়ে উঠতে থাকে। ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারিসহ সভা-সমাবেশ, মিছিল এক মাসের জন্যে নিষিদ্ধ করা হয়। আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা না করা নিয়ে অনেক আলোচনা শেষে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের সম্মুখ চত্বরে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে ১০ জন করে মিছিল শুরু করা হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিক থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্রদের মিছিল এগিয়ে চলে। পুলিশ প্রথমে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে এবং মিছিলে লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের লক্ষ করে গুলি ছুড়লে মিছিলে সামনের দিকে থাকা রফিকসহ আরও অনেকে ঘটনাস্থলেই শহিদ হন এবং অন্যরা আহত হন। সেনা পাহারায় ভাষা শহিদ রফিকের লাশ আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ভাষা শহিদ রফিকের মতো যাঁরা বাংলা ভাষার জন্য অকাতরে রক্ত ঝরিয়েছেন তাঁদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে আমাদের উচিত বাংলা ভাষার স্বকীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা করা এবং সারা বিশ্বে তা ছড়িয়ে দেওয়া।

 

এসএসসি পরীক্ষার্থী

ময়মনসিংহ জিলা স্কুল, ময়মনসিংহ