পাখি

কোকিল

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:২১

প্রকৃতিতে বসন্তের আগমনীবার্তা নিয়ে আসে কোকিল। তাই একে বলা হয় বসন্তের দূত। দেখতে কালো হলেও এর ‘কুউ-কুউ’ ডাক যে কাউকে বিমোহিত করার জন্য যথেষ্ট। নিজেকে গাছের আড়ালে রাখতে পছন্দ করে এই পাখিটি। Cuculidae পরিবারের এ পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম Eudynamys scolopacea।

কোকিলের দৈর্ঘ্য ৪০ থেকে ৪৩ সেন্টিমিটার আর ওজন ১৭০ গ্রাম। লিঙ্গভেদে কোকিলের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। পুরুষ কোকিলের দেহ কুচকুচে কালো, পালকে আবৃত ও ঠোঁট  সবুজ। স্ত্রী কোকিলের দেহ অসংখ্য সাদা রেখা আঁকা ও ঠোঁট ধূসর। পা, পায়ের পাতা ও নখ কালো রঙের। মার্চ থেকে আগস্ট প্রজনন মৌসুম। আর প্রজনন মৌসুমে কেবল পুরুষ কোকিল সুরেলা কণ্ঠে ডাকতে পারে। পুরুষ কোকিল এ সময় স্ত্রী কোকিলকে মিষ্টি গলায় সুর তুলে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে।

পরনির্ভরশীল পাখি হিসাবে কোকিলের সুনাম সর্বজনবিদিত। কোকিল কখনো বাসা বাঁধে না। এরা অন্য পাখি বিশেষত কাকের বাসায় ডিম পাড়ে। আর সেক্ষেত্রে কাকের বাসার চারদিকে পুরুষ কোকিল ঘুরে ঘুরে কাককে রাগিয়ে তোলে। কাক কোকিলকে তাড়াতে বেরিয়ে আসে। সে সুযোগে স্ত্রী কোকিল কাকের কয়েকটি ডিম ফেলে দিয়ে ডিম পেড়ে চলে আসে। কাক নিজের ডিমের সঙ্গে কোকিলের ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায় এবং লালনপালন করে। বাচ্চা ১৫ থেকে ১৭ দিনে উড়তে শেখে।  কোকিল বাঁচে গড়ে চার বছর।