প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকার লোভে নাজমাকে খুন!

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯:৫৬

কুমিল্লায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকার জন্যই খুন করা হয়েছে নাজমা নামের এক নারীকে। ক্লু-লেস এ খুনের ঘটনার এক বছর পর দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি কুমিল্লার একটি টিম। বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে সিআইডি-কুমিল্লার পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান সাংবাদিকদের জানান, তারা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

গ্রেফতার দুই যুবক হচ্ছে- জেলার দাউদকান্দি উপজেলার বড়কোট গ্রামের শহীদুল্লাহ ভূঁইয়ার ছেলে আবদুল্লাহ আনসারী মুন্না ও আদর্শ সদর উপজেলার দূর্গাপুর এলাকার মো. মোস্তফার ছেলে ঘাতক প্রেমিক দ্বীন ইসলাম দীনু। 

মামলার অভিযোগ ও সিআইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার রামপুর পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের পাশের একটি ঝোপে বেডশিট মোড়ানো অবস্থায় এক অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করে সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ। এ বিষয়ে ওই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। 

প্রযুক্তির ব্যবহার করে আবদুল্লাহ আনসারী মুন্না ও দ্বীন ইসলাম দীনুকে গ্রেফতার করে সিআইডি। সিআইডি-কুমিল্লার পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান সাংবাদিকদের জানান, ‘জিজ্ঞাসাবাদে দীনু জানিয়েছে, সে সেনানিবাসসংলগ্ন নিশ্চিন্তপুর এলাকার একটি হোটেলে কাজ করতো। সেখানে নাজমা নামের এক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে পালিয়ে বিয়ের করার সিদ্ধান্ত হয়। নাজমার কাছে ৬০ হাজার টাকা আছে বলে দীনুকে জানায়। ওই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার লোভে প্রেমিক দীনু টাকা নিয়ে আসার জন্য নাজমাকে বলে। নাজমাকে বিয়ে করবে বলে তাকে নিয়ে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর দীনু চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে। এ সময় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোয়াগাজী এলাকায় যাওয়ার পর নাজমা টাকা এনেছে কিনা দীনু জানতে চায়। এতে নাজমা জানায়, তার কাছে ১৫ হাজার টাকা আছে। বাকি টাকা কই? এ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে নাজমার হাত-পা বেধে গলায় ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দিনু। পরে লাশটি ঝোপের মাঝে ফেলে পালিয়ে যায়।’ 

তিনি জানান, ‘ক্লু-লেস এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের কুমিল্লার ৯ নম্বর আমলী আদালতে প্রেরণ করা হলে তারা আদালতের বিচারক বেগম শারমিন রীমার নিকট নাজমা হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। পরে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়। তবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই যুবককে সনাক্ত ও গ্রেফতার করা গেলেও ভিকটিমের ঠিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি