শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ফিরে দেখা ২০২১

যে কারণে বছরজুড়ে আলোচিত সাত কলেজ

দেখতে দেখতে বিদায় লগ্নে ২০২১। বছরজুড়ে নানান ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রে ছিল সাত কলেজ। বছরের শুরুতেই ১৪ই জানুয়ারি থেকে শুরু হয় করোনায় স্থগিত হওয়া পরীক্ষা, ফেব্রুয়ারিতে আবার চলমান পরীক্ষা স্থগিত, পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ, বিশেষ পরীক্ষার দাবিতে নীলক্ষেতে বিক্ষোভ, দুই দফায় শিক্ষার্থী বহিষ্কার, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরা ও কলেজগুলোর আবাসিক হল খুলে দেওয়া— এমন নানান ঘটনায় বছর জুড়ে সাত কলেজ ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২২, ১৯:০৭

১১ মাস বন্ধ শেষে পরীক্ষা শুরু
মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় প্রায় ১১ মাস বন্ধ থাকার পর ১৪ই জানুয়ারি থেকে শুরু হয় সাত কলেজের স্থগিত পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে করোনা’র প্রথম ঢেউয়ের পর ২০১৭-এর মাস্টার্স শেষ পর্বের স্থগিত পরীক্ষা শুরু হয়। পরে অনার্স চতুর্থ বর্ষ, অনার্স তৃতীয় বর্ষসহ অনেক বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

 

চার ঘণ্টার পরীক্ষা দুই ঘণ্টায়
করোনার পর নতুন করে শুরু হওয়া সব পরীক্ষায় সময় কমিয়ে আগের চেয়ে অর্ধেক করা হয়। চার ঘণ্টার পরীক্ষা নেওয়া হয় দুই ঘণ্টায়। তবে পরীক্ষার সময় কমালেও সেই অনুপাতে প্রশ্নের সংখ্যা না কমানোর অভিযোগ তোলেন শিক্ষার্থীরা।

 

অবরুদ্ধ সাত কলেজের সমন্বয়ক
তিন বিষয় পর্যন্ত অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরের শিক্ষাবর্ষে প্রমোশনের দাবিতে ২৪শে জানুয়ারি সকাল ১১ টায় কবি নজরুল সরকারি কলেজের মূল ফটকে আমরণ অনশনে বসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে সাত কলেজের সমন্বয়ক (ফোকাল পয়েন্ট) ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকারসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে রাত ১০টার দিকে তাঁরা কলেজ থেকে বের হন।

 

পরীক্ষা স্থগিত ও বিক্ষোভ
২৩শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সাত কলেজের প্রধান সমন্বয়কারী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামালের সঙ্গে সাত কলেজের অধ্যক্ষদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সভায় সাত কলেজের চলমান সব পরীক্ষা ১৭ই মে পর্যন্ত স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে নীলক্ষেত মোড়ে তৎক্ষণাত বিক্ষোভ করে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে রাত সোয়া দশটার দিকে পরদিন একই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে রাজপথ ত্যাগ করে শিক্ষার্থীরা। 

 

জরুরি সভা করে স্থগিত পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ
চলমান সব পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে ২৫শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৯ টায় নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২ টার দিকে নীলক্ষেতের পাশাপাশি সায়েন্সল্যাব মোড়ও অবরোধ করেন তারা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা-উপমন্ত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যসহ সাত কলেজের অধ্যক্ষদের অনলাইনে এক জরুরি সভায় চলমান পরীক্ষা গুলো গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপরই স্থগিত পরীক্ষাগুলোর নতুন করে রুটিন প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 

 

চার দফা দাবিতে নীলক্ষেত অবরোধ
ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন, একসঙ্গে সব বিভাগের ফলাফল প্রকাশসহ চার দফা দাবিতে ২৯শে আগস্ট সকাল এগারোটার দিকে নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে সাত কলেজের সমন্বয়ক (ফোকাল পয়েন্ট) ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকারের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা।

 

শিক্ষার্থী বহিষ্কার
দুই দফায় সাত কলেজের ১৪৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়। ২৮শে ফেব্রুয়ারি উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেটের এক সভায় শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশ অনুযায়ী পাঁচ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী ও ৯১ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২৯শে সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেটের অপর একটি সভায় শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশ অনুযায়ী ৮ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী ও ৪৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

 

ক্লাস ও হলে ফেরা
প্রায় দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ক্লাসে ফিরে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। সশরীরে ক্লাস শুরু হয় ২১শে অক্টোবর। সরকারি তিতুমীর কলেজের আবাসিক হল খুলে দেওয়া হয় ২৪ অক্টোবর। এইচএসসি শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা কলেজের আবাসিক হল খুলে দেওয়া ৩০ সেপ্টেম্বর এবং অনার্স ও মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য হল খুলে দেওয়া হয় ২৪শে অক্টোবর। ইডেন মহিলা কলেজের আবাসিক হল খুলে দেওয়া হয় ১০ই অক্টোবর। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের আবাসিক হল খুলে দেওয়া হয় ১৯শে সেপ্টেম্বর। 

 

শিক্ষার্থীদের টিকাদান
নানান অনিশ্চয়তার পর ২৪শে অক্টোবর থেকে শুরু হয় সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম। মহাখালীর করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে এই কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমদিকে শিক্ষার্থীরা টিকা গ্রহণ নিয়ে জটিলতার অভিযোগ করলেও পরে টিকাদান কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়িয়ে এই জটিলতা নিরসন করা হয়। 

 

বিশেষ পরীক্ষার দাবিতে নীলক্ষেতে আন্দোলন
৯ই নভেম্বর দুপুর একটার দিকে বিশেষ পরীক্ষার দাবিতে নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে আন্দোলন করেন ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। দুপুর তিনটার দিকে ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষক আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে বিশেষ পরীক্ষার বিষয়ে বিবেচনা করা হবে এবং বিষয়টি নিয়ে সাত কলেজের অধ্যক্ষরা জরুরি সভা করবেন বলে জানালে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।
 
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাতটি কলেজ হল— ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ঢাবির উপাচার্যকে কোনো দলের অনুগত হয়ে কাজ না করার আহ্বান ছাত্রদলের

সালাম না দেওয়ায় জুনিয়রকে ছাত্রলীগকর্মীর থাপ্পড়!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্রলীগের হামলার মুখে পিছু হটলো ছাত্রদল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ, আতঙ্কে সাধারণ শিক্ষার্থীরা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

‘ছাত্রদল তপ্ত রোদে নয়, মাকে কটূক্তি করায় উত্তপ্ত’ 

ঢাবিতে পাঁচ স্থানে হবে ঈদের জামাত

সাত কলেজের আজকের পরীক্ষা স্থগিত

মোশতাককে ‘শ্রদ্ধা’ জানানোর ব্যাখ্যা চাইলো ঢাবি শিক্ষক সমিতি